আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতিশীল ফলাফল আনতে পারে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রেক্ষাপটে আমেরিকান কূটনীতিকরা দলটির সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত ইতিহাসে একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে, সর্বশেষ শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে। তবে সম্প্রতি তারা নিজেদের রূপরেখা নরম করে “দুর্নীতি নির্মূল” ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ওপর ফোকাস করার চেষ্টা করছে। দলটি শারিয়াহ বা নারীর কর্মক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো এখন প্রাথমিক পর্যায়ে দেখছে বলে তাদের মুখপাত্র জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে এসেছে একটি ডিসেম্বরের অডিও রেকর্ডিং, যেখানে ঢাকা ভিত্তিক এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, “আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।” তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতের ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে তারা সংযোগ রাখতে চায়। কূটনীতিক আশ্বাস দেন, জামায়াত শারিয়া আইন জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতে পারবে না; বিপজ্জনক কোনো পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকায় দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শি বলেন, “ডিসেম্বরের আলোচনাটি রুটিন, অফ-দ্য-রেকর্ড সভা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতী নয় এবং নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গে কাজ করবে।”
জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেন, “আমরা ব্যক্তিগত কূটনৈতিক সভার মন্তব্যের প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে চাই না।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর থেকে সামরিক অভ্যুত্থান, স্বৈরশাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে এসেছে। দেশটির প্রধান দুটি দল ছিল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনাকে ছাত্র-প্রদর্শনের মাধ্যমে উৎখাত করা হলে মধ্যবর্তী সরকার স্থাপিত হয়, যা নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এবারের নির্বাচন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাশাপাশি, সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনও দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে।
জামায়াত ‘মেইনস্ট্রিমে’ প্রবেশ
জামায়াত নির্বাচনে দুর্নীতি প্রতিরোধ, জবাবদিহিতা ও সুষ্ঠু প্রশাসনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালাচ্ছে। বিএনপি তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। দলের নেতা শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে জোট গঠন হলে তারা সরকার পরিচালনায় অংশ নেবে। ২০০১-২০০৬ সালে জামায়াত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জুনিয়র অংশীদার ছিল।
মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের পর জামায়াত চারবার ওয়াশিংটনে এবং বেশ কয়েকবার ঢাকায় মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রভাব
অ্যানাটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।” ভারতের পক্ষ থেকে জামায়াতকে পাকিস্তানের সহযোগী হিসেবে দেখা হয় এবং এটি অঞ্চলের নিরাপত্তা কৌশলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য, নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের ওপর কোনো বড় প্রভাব ফেলবে না।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
সংবাদপত্রের পাতা থেকে এর সর্বশেষ খবর