বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, এবারও ভোট নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে জনগণ ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আগে যেমন নিশিরাতে ভোট হয়েছে, এখন আবার ভিন্ন কৌশলে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। জনগণের সজাগ উপস্থিতিই এসব অপচেষ্টা রুখে দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই। এ জন্য সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং ফজরের নামাজ ভোটকেন্দ্রের কাছেই আদায় করতে হবে। তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে শুধু ভোটের অধিকার নয়, জনগণের কথা বলার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দেড় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছে। গত ১৫ বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, তার বিচার হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।
জনসভায় দুটি কার্ড প্রদর্শন করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করা হবে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের আগে দক্ষ জনশক্তি তৈরির বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপির স্লোগান—‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’।
এ সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জোটের শরিক দল মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং জনগণকে তাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই প্রার্থীদের মাধ্যমেই এলাকায় সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মনোনীত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের প্রার্থী ড. মুশফিকুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতির মনোনীত প্রার্থী জুনায়েদ সাকি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের প্রার্থী আব্দুল হান্নানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম জনসভার সঞ্চালনা করেন। এর আগে দুপুর থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হন। সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের সমাবেশ শেষে রাত ১০টায় তারেক রহমান মাঠে পৌঁছালে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানকে সরাসরি জনসভায় পেয়ে নেতাকর্মীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর