বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই। দেশকে বিভক্ত করতে চাই না। জুলাই আন্দোলনের শ্লোগান উই ওয়ান্ট জাস্টিস নিশ্চিত করতে চাই। শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জে ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের আয়োজনে নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এক সময় সিরাজগঞ্জ তাঁত শিল্প। কিন্তু তাঁত বাজার তৈরী করা এবং তাঁতীদের সহজলভ্যভাবে সরঞ্জামাদি সরকার থেকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হয়নি। ১০ দলের প্রার্থীরা সংসদের গেলে তাঁত শিল্পকে জীবন্ত করে তোলা হবে। তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থ বছর বাংলাদেশ গুড়ো দুধের চাহিদা পুরনের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার গুড়ো দুধ কেনা হয়েছিল। অথচ সিরাজগঞ্জের খামারীরা দুধের ন্যায মুল্যের অভাবে রাস্তায় ঢেলে দিয়েছে। খামারীদের প্রতি সরকার ও প্রশাসনিক যন্ত্রের উপহাস উল্লেখ করে বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি সিরাজগঞ্জের দুধ ঢাকায় যাবে না। সিরাজগঞ্জের দুধ আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াজাত করে গোটা দেশে সরবরাহ করা হবে। এতে খামারীরা উৎসাহিত হবে। অনেক বেকারত্ব কমে যাবে। সিরাজগঞ্জে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ নদী ভাঙ্গনের কারনে বাস্তুহারা হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। বাঁধের জন্য ব্লক বসানো হয়। কিন্তু চোর-ডাকাত জড়িত থাকার কারনে সেগুলো মানসম্মত না হওয়ায় ধ্বসে পড়ে। আমরা কথা দিচ্ছি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব। নদীগুলো মরুভুমি করা হয়েছে। আমরা নদীগুলো ড্রেজিং করব। ড্রেজিংয়ের বরাদ্দ বালুখেকোরা খেয়ে ফেলেছো। আমরা হাত তৈরী করছি তাদের পেট থেকে টাকাগুলো ফেরানোর জন্য প্রস্তুত করছি। তিনি বলেন, নতুন করে যদি চোর-ডাকারে হাত জনগনের দিকে না যায় তবে ইবনে বতুতার মতো দেশ গঠন হবে।
তিনি বলেন, অনেকে বলেন জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের বের হতে দিবে না, লেখাপড়া করতে দেয়া হবে না. পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দিবে না। এটা ধোকাবাজদের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা নবী সা. নারীদের যুদ্ধ করতে নিয়ে গেছেন। আমরা যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই তবে নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা শতভাগ নিশ্চিত করা হবে।
আমরা সকলকে নিয়েই সরকার গঠন করতে চাই। তবে যারা দুর্নীতি করবে না, দুর্নীতিবাজদের বগলের নীচে আশ্রয় দিবে না। গরীব-ধনী, হিন্দু মুসলিম, বৌদ্ধ খৃষ্টান, নারী পুরুষ, বৃদ্ধ শিশু সকলের জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা হবে। যে অপরাধে একজন সাধারন নাগরিকের বিচার হবে, সেই অপরাধে প্রধানমন্ত্রীর বিচার হবে। আমরা এই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করব।
তিনি বলেন, চুরি থাকবে না। টেন্ডারবাজি হবে না। সব টেন্ডার হবে ই-টেন্ডার সিস্টেম।
তিনি বলেন, হ্যা ভোট মানে হচ্ছে, বাংলাদেশে হাদিকে মরতে হবে না। ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। চাঁদাবাজের অস্তিত্ব বাংলার জমিনে বরদাস্ত করা হবে না। প্রত্যেক ব্যক্তিকে হ্যা ভোটের জন্য জাগিয়ে তুলতে হবে। ১০ দলীয় জোট থেকে যেখানে যে মার্কা তুলে দিবো সেখানে সেই মার্কাকে বিজয়ী করবেন।
জেলা আমির সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য প্রার্থী সহকারী সেক্রেটাকারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ আলী আলম, জাহিদুল ইসলাম, এনসিপির সাইদ মোস্তাফিজ ও খেলাফত মজলিসের আব্দুর রউফ বক্তব্য রাখেন।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর