কক্সবাজারের উখিয়ায় বিএনপি নেতার মাছ লুটের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টেকনাফে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা।
তাদের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে মামলা দিয়ে শুধু একজন নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজকে চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে টেকনাফের শাপলা চত্বরে কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম বাঁধন। এতে টেকনাফ ও কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন পত্রিকা, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক শাহেদ ফেরদৌস হিরুর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।
বক্তাদের ভাষ্য, একজন সাংবাদিকের কলম থামাতে মামলা ব্যবহার করা হলে তা পুরো গণমাধ্যমের জন্য ভয়ভীতির বার্তা হয়ে দাঁড়ায়। এসময় মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা। মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকেরা সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন এবং প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের সোনারপাড়া পয়েন্ট এলাকায় এক ব্যবসায়ীর মাছের চালান থেকে ১২২ বস্তা মাছ জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, উখিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা আরফাত চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ ঘটনা ঘটায়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মধ্যস্থতায় ১০০ বস্তা মাছ ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ২২ বস্তা এখনো ফেরত মেলেনি। মাছ ফেরতের সময় ‘লেবার খরচ’ বাবদ দুই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তার আরও অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আরফাত চৌধুরীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের একটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাংবাদিক শাহেদ ফেরদৌস হিরুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিস্তারিত বিষয়বস্তু জানা না গেলেও সাংবাদিক মহলের ধারণা, প্রকাশিত প্রতিবেদনকেই কেন্দ্র করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় কক্সবাজার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও কক্সবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটি পৃথক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংগঠন দুটির নেতারা বলেন, জনস্বার্থে প্রকাশিত সংবাদের কারণে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তারা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের ভাষ্য, অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে আসামি করা হলে তা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ সংকুচিত করবে এবং ভবিষ্যতে দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর প্রকাশে অনেকে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর