জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আজাদী না গোলামী। হ্যা ভোট হবে আজাদীর পক্ষে। গোলামীর জন্য নয়। হ্যা ভোট বাস্তবায়ন না হলে সরকার গঠন করলেও ফ্যাসিবাদ রয়ে যাবে।
তিনি পাবনার জনসভার মঞ্চে বলেন, ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে আমির ও নায়েবে আমিরকে। এই পাবনায় আমরা তাঁকে রেখেছি ব্যথিত হৃদয়ে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের জোয়ার কাটতে হবে। গর্জে উঠতে হবে। একটি পরিবার গোষ্ঠীর কারনে সাড়ে ১৫ বছর মজলুম ছিলাম। কিন্তু আমাদের চেষ্টা চালিয়ে গেছি। চাঁদাবাজ, মামলাবাজ, দখলবাজ এমন নজির নেই জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের।
আমাদের কষ্ট পেছনে রেখে জনগনের সামনের কষ্ট দূর করতে জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে। হত্যা, অপহরণ, গুম, খুন, মামলা, হামলা, নিবন্ধন বাতিল, দল নিষিদ্ধ, প্রতিক বাতিল, বাড়িঘর ধ্বংস, অফিস দখল৷ এতো কিছুর পরও আমাদের দমাতে পারেনি দাবী করে বলেন, ৬ তারিখের পর অনেকের কপাল খুলে গেছে অবৈধ পথ ধরে। চাঁদাওয়ালাদের হাত বন্ধ করে দিবো। দূর্নীতি করবো না, প্রশ্রয় দিবো না।
শফিকুর রহমান বলেন, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে চাই, এতে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী তাদের মুখে তাকিয়ে নয়, ন্যায় বিচার হবে। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় গরম ভাত দেখে বিড়াল বেজার হলে কিছু করার নেই। আধিপত্যবাদের ছায়া আর বাংলাদেশে পড়তে দেয়া হবে না। সব সময় লাল কার্ড দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ১০ দল মানে হবে বাংলাদেশ। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ করতে চাই। পাবনায় নিজামী ও সুবহানকে আমানত রেখেছি। আপনারা আপনাদের ভালোবাসা ৫ টি আসন উপহার দিলে সরকার গঠন হলে পাবনা থাকবে উন্নয়নের রোল মডেলে। পরে তিনি পাবনার ৫ টি প্রার্থীকে পরিচয় করে দেন এবং প্রার্থী হাতে প্রতীক তুলে দেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের "চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ" শ্লোগানে প্রতীক বরাদ্দের পর শনিবার বিকেলে ঐতিহ্যবাহী পাবনা সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে এই পাবনায় নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করে জেলা জামায়াতে ইসলামী।
নির্বাচনী জনসভায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির, পাবনা-৪ আসনের জামূয়াতের মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা আবু তালেব মন্ডলের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আমিরে জামায়াত ডা: শফিকুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ। চাঁদাবাজ, দূর্নীতিবাজ বাংলাদেশ হবে। কোন ষড়যন্ত্র আর জামায়াতে ইসলামীকে রুখতে পারবে না। ১২ ফেব্রুয়ারী কোন দূর্বৃত্ত ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে না।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পাবনা-৫ আসনে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন, পাবনা-১ আসনে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, পাবনা-২ আসনে হেসাব উদ্দিন, পাবনা- ৩ আসনে মাওলানা আলী আছগার, কেন্দ্রীয় শিবিরের জেনারেল সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ সহ ১০ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা তাদের বক্তৃতায় তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে বলেন, ১৭ বছর দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে অবস্থান করেছেন। দেশে যখন নেতাকর্মীরা অত্যাচার, নির্যাতন, জেল জুলুমের শিকার হচ্ছিলেন তখন আপনি ছিলেন আরাম আয়েশের জীবনে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান আপনি। আপনার মুখে হাস্যকর বিদ্রূপ আর অশোভন কথাগুলো শোভা পায় না। নিজের ওজন, নিজের পূর্বের কৃতকর্ম স্মরণ করে কথাবার্তা বলতে পরামর্শ দেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
নেতারা বলেন, ৬০ ভাগ প্রার্থী ঋণ খেলাপী। তারা ক্ষমতায় গেলে ব্যাংক পুরো লুটে নিবে। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে বলেন, ৫৪ বছর পর সুযোগ এসেছে। ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রচার চালাচ্ছেন ব্যারিস্টারী পড়েছেন বা পড়ছেন। অথচ হলফনামায় দিয়েছেন ইন্টারপাশ। এসব ধোকা দেয়ার দিন শেষ।
ফ্যাসিস্ট পদ্ধতি ছেড়ে ভোট কেন্দ্রে আসার পরামর্শ দিয়ে জামায়াতের নেতারা বলেন, ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট ডাকাতি করবেন এটা ভুলে যান। এমন দিবাস্বপ্ন দেখে ভোট কেন্দ্রে আসার আগে বাবা মা বা স্ত্রী সন্তানদের সাথে শেষ কথা দেখা বা দোয়া নিয়ে আসবেন।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন জেলা ও স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এডওয়ার্ড কলেজ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর