আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে গত ৫ দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ কেএম আনোয়ারুল ইসলামের (ঘোড়া প্রতিক) প্রচারণায় তিন দফায় বাধা, মারপিট ও প্রচারনা মাইক ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে সংশয় আর উৎকণ্ঠা। সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে একটি দলের সন্ত্রাসীদের এমন আচরন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্তাদের নিরব ভুমিকায় হতাশা প্রকাশ করে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় পৌর শহরের নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের রেলবাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলামের প্রচার মাইক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর গত ২৪ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে উপজেলার ফৈলজানা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছেলে কেএম মনোয়ারুল ইসলাম শাফির প্রচারে বাঁধা ও তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করেন সেখানকার স্থানীয় বহিস্কৃত যুবদল নেতা লোকমান ও তার সহযোগীরা। এরপর সবশেষ সোমবার ২৬ জানুয়ারি বিকেলে চাটমোহর পৌর শহরের দোলং এলাকায় এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচার মাইক ভাঙচুর করে দূর্বৃত্তরা।
প্রত্যেকটি ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও থানা পুলিশকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তেমন কোন ভুমিকা না নেওয়ার অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পাবনা জেলার পাঁচটি আসনের কোথাও কোন নির্বাচনী সহিংসতা না থাকলেও পাবনা-৩ আসনে প্রায় প্রতিদিনই আমার কর্মী, সমর্থকদের লাঞ্চিত করা সহ আমার প্রচার মাইক ভাঙচুর করা হচ্ছে। একটি দলের প্রার্থী বাহিরাগত সন্ত্রাসী এলাকায় ঢুকিয়ে এসব কর্মকান্ড করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার হোসেন বলেন, এগুলো নির্বাচনী কাজে বাধা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অপরাধ। আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করবো। এখানে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এসকল বিষয়ে দায়িত্বে আছে। তাদের কাছে অভিযোগ করলে নির্বাচনী আচরন বিধি বিধান অনুযায়ী উনারা ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একটি জিডি করেছেন। সেই প্রেক্ষিতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবো।
এ বিষয়ে পাবনা-৩ আসনের চাটমোহরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইলেকট্ররাল ইনকুয়ারী কমিটির সহকারী ম্যাজিষ্ট্রেট ইসরাত জাহান বর্ষা জানান, এসব অনাকাংখিত ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। সোমবার বিকেলে একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে চাটমোহরের সেই জায়গায় আমাদের অপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম সাহেব গিয়েছিলেন। তবে কারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে সে বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য কেউ জানাতে পারে নাই। এসব ভাঙচুরের ঘটনা ফৌজদারি অপরাধ তাই পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর