সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানার মধ্যে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলের মতো প্রতিষ্ঠানই বেশি, এমনকি শতভাগ রপ্তানিনির্ভর কারখানাও রয়েছে। এর ফলে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। প্রতিটি শ্রমিকের ওপর যদি গড়ে তিনজন করে পরিবারের সদস্য নির্ভরশীল হন, তাহলে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে চার লাখে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের মুখে একটি স্লোগান শোনা যাচ্ছে— “ক্ষমতা না জনতা?” এর জবাবে ধ্বনিত হয় “জনতা, জনতা”। কিন্তু শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার ঘটনায় ছাত্র সংগঠনগুলোর নির্লিপ্ত ভূমিকা প্রশ্ন তোলে— আদৌ কি বিষয়টি জনতার, নাকি আসলে ক্ষমতার? বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি লিখেছেন, এরই মাঝে ঘোষণা এসেছে দেশীয় উৎপাদনকারী কলকারখানা রক্ষায় সরকারের তরফ থেকে কোন 'কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায়' আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সকল টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
শেষে জুলকারনাইন লিখেছেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ছাত্র সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক বিষয়ে যথেষ্ট তৎপর দেখা গেলেও, একের পর এক মিল-কারখানা বন্ধ ও লক্ষাধিক লোকের জীবিকা নির্বাহ থেমে গেলেও তাঁদের পক্ষ হতে এ বিষয়ে তেমন কোন কার্যকরী তৎপরতা চোখে পড়েনি। ইদানিং শিক্ষার্থীদের সমস্বরে একটি স্লোগান দিতে লক্ষ্য করা যায় — ক্ষমতা না জনতা? প্রতিউত্তরে শোনা যায় 'জনতা-জনতা'। শতাধিক কলকারখানা বন্ধ ও লক্ষাধিক শ্রমিকের বেকারত্বে ছাত্র সংগঠনগুলোর নির্লিপ্ত আচরণ; প্রশ্নের উদ্রেক করে, আসলেই জনতা, নাকি কেবলই ক্ষমতা?
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
অন্যান্য... এর সর্বশেষ খবর