বাংলাদেশের বীমা খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন স্বীকৃতি প্রদান এবং গ্রাহকের আস্থা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত “IDRA Insurance Excellence Award 2025” প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট আদিবা আহমেদ এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি বি. এম. ইউসুফ আলী, আইডিআরএ’র সদস্য (প্রশাসন) মো. ফজলুল হক।
অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলোর মাঝে প্রথম স্থান অর্জন করেছে প্রগতি ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, তৃতীয় স্থানে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, চতুর্থ স্থানে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি এবং যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, সেনা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ও ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
অন্যদিকে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলোর মাঝে প্রথম স্থান অর্জন করেছে আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (মেটলাইফ), দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, তৃতীয় স্থানে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, চতুর্থ স্থানে জীবন বীমা কর্পোরেশন এবং যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ও গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আদিবা আহমেদ বলেন, “এমন স্বীকৃতি অনুষ্ঠান বীমা খাতে উৎকর্ষতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বকে উৎসাহিত করে এবং শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, “বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ- আইডিআরএ বিগত বছরগুলোতে নীতিমালা প্রণয়ন, তদারকি শক্তিশালীকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। এই ধরনের সম্মাননা উদ্যোগ আইডিআরএ’র সেই প্রচেষ্টারই একটি বাস্তব প্রতিফলন। সরকার চায়, বীমা খাত আরও জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠুক। সেই লক্ষ্যে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন, দাবি নিষ্পত্তির সময় কমানো এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।”
আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ড. এম. আসলাম আলম বলেন, “বীমা খাতকে সংকট থেকে উত্তরণ এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে প্রণীত আইনগুলো দ্রুত কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, ডিজিটাইজেশন এখন সময়ের দাবি- এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং গ্রাহকদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি আরও বলেন, “বীমা খাতে প্রশিক্ষিত ও পেশাদার জনবলের ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কখনও কখনও শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার ঘটনাও আমাদের উদ্বিগ্ন করে। এই খাতে আরও বেশি দক্ষ ও পেশাদার মানবসম্পদ গড়ে তোলা প্রয়োজন।”
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, “বাংলাদেশের বীমা খাত দ্রুত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। ডিজিটালাইজেশন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, অনলাইন পলিসি ইস্যু এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি- এসব উদ্যোগ আমাদেরকে ধীরে ধীরে বৈশ্বিক মানের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে। আজ গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সহজেই বীমা সেবা গ্রহণ করতে পারছে, যা সময় ও ব্যয় উভয়ই সাশ্রয় করছে। উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের পার্থক্য কমাতে হলে আমাদেরকে গ্রাহককেন্দ্রিকতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে বীমা পণ্যে উদ্ভাবন, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আইডিআরএ এই ক্ষেত্রে যে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি বি. এম. ইউসুফ আলী। তিনি বিমা রেজুলেশন আইন ২০২৫ খসরা পাস করার অনুরোধ জানান।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য এর সর্বশেষ খবর