নারীদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যকে ঘিরে দেশজুড়ে যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতেই স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির নারীদের নিয়ে যে অবমাননাকর ও কুৎসিত বক্তব্য দিয়েছেন, তা সারাদেশের মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ঘটনার দায় এড়াতে এবং জনমতকে বিভ্রান্ত করতেই নতুন করে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক উসকে দেওয়া হচ্ছে।
রিজভী বলেন, প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত কোনো ঐতিহাসিক সত্যকে এভাবে আড়াল করা সম্ভব নয়। নারীদের প্রতি অবমাননার বিষয়টি স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে চাপা দেওয়া যাবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি আরও বলেন, জামায়াতের আসল চরিত্র এখন জনগণের সামনে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে তারা ক্ষমতায় এলে সেই শাসন হবে ভয়াবহ, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও যন্ত্রণাদায়ক, যা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবে এবং নতুন এক ফ্যাসিবাদের জন্ম দেবে।
স্বাধীনতার ঘোষক প্রসঙ্গে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার মতে, প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি মেজর হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। সেই সময় তার সঙ্গে যারা কাজ করেছেন, তারাও নিজেদের স্মৃতিচারণমূলক লেখায় সম্মানের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এখন রাজনৈতিক স্বার্থে জামায়াতের আমির আমাদের বড় ভাই অলি আহমেদকে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। অথচ তিনি নিজেও কখনো এমন দাবি করেননি। তিনি সবসময় বলেছেন, তিনি জিয়াউর রহমানের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জামায়াতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, স্বাধীনতার সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কী? যখন হানাদার বাহিনী আমাদের মা-বোনদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তখন আপনারা সেই নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়াননি; বরং তাদের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। আজ কোন মুখে, কোন উদ্দেশে আপনারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা বলেন?
জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কয়েকদিন পর হয়তো আপনারা বলবেন গোলাম আজমই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনো পিছপা হন না। ইসলামের নামে ব্যবসা করা এবং মুনাফেকিই আপনাদের চরিত্র। ইসলাম সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে এই মুনাফেকিকে।
রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে রিজভী বলেন, ১৯৮৬ সালে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা ও জামায়াত—দু’পক্ষই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সেই নির্বাচনে যাননি। নয় বছর ধরে তিনি নির্যাতন, নিপীড়ন, গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দিত্ব সহ্য করেছেন, তবু নিজের কথা ভাঙেননি। এজন্যই জনগণ বারবার তাকে সমর্থন দিয়েছে, রায় দিয়েছে। কিন্তু আপনারা তা পাননি।
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং, মাইনুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর