চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন বন্দর শ্রমিক ও কর্মচারীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতির ফলে বন্দর কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে বন্দর ভবনের পাশে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন।
এর আগে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। সর্বশেষ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শেষ হওয়ার আগেই আন্দোলন আরও কঠোর করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আমরা কর্মসূচি শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছিলাম। কিন্তু আজ ঢাকায় বিডা কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আমাদের নেগোসিয়েশন কমিটির ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। আগে কনটেইনারপ্রতি হ্যান্ডলিং চার্জ নিয়ে আলোচনা চলছিল, এখন রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দর লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’
আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘ঢাকায় আমাদের কর্মকর্তাদের কার্যত আটকে রেখে জোর করে চুক্তিতে সই করানোর চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় কর্মসূচি শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই। তাই আমরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
কর্মবিরতির চতুর্থ দিনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিতে জাহাজ আনা–নেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত ছয়টি জাহাজ মূল জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে পতেঙ্গায় অবস্থিত আরএসজিটি টার্মিনাল ও দুটি বিশেষায়িত জেটিতে তিনটি জাহাজ আনা–নেওয়া হয়েছে।
এর আগে কর্মবিরতির সময় পণ্য ওঠানামা ও খালাস কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও জাহাজ আনা–নেওয়া চালু ছিল। মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সেই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্দরের অচলাবস্থা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
বন্দর কর্মকর্তারা জানান, জেটিতে জাহাজ আনা–নেওয়ার কাজ করেন পাইলটরা, যাঁদের সহায়তায় টাগবোটসহ প্রয়োজনীয় নৌযান ব্যবহৃত হয়। এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হয় ডক অফিস থেকে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শ্রমিক-কর্মচারীরা ডক অফিসে আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা অফিস খালি করে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে পাইলট পরিবহনসহ কোনো নৌযান ছাড়ানো সম্ভব হয়নি।
সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জোয়ারের সময় জেনারেল কার্গো বার্থ, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে ছয়টি জাহাজ আনা–নেওয়ার সূচি থাকলেও আন্দোলনের কারণে একটি জাহাজও পরিচালনা করা যায়নি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর