সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সবাই আন্তরিক ও ঐকান্তিক। নির্বাচন কমিশন, সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী—সবাই একই লক্ষ্যে কাজ করছে। ফলে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সেনাপ্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বিকাশের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বা ‘মানি ট্রানজেকশন’ হতে পারে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় কিছু অপরাধী থাকতে পারে, যারা ভোটের দিন ব্যালট ছিনতাই, রিগিং বা ভোটারদের পোলিং স্টেশনে যেতে বাধা দেওয়ার মতো অপকর্মে জড়াতে পারে। “আমরা আশা করি, আমাদের বাহিনী এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে,” বলেন সেনাপ্রধান।
অপরাধের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে আটক (ডিটেনশন) অথবা মামলা—যেটি প্রযোজ্য, সেটিই গ্রহণ করার নির্দেশনা দেন তিনি। সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এর আগে গত রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে ময়মনসিংহ সফর করেন সেনাবাহিনী প্রধান। সফরকালে তিনি নির্বাচন ও গণভোটকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং নাগরিকবান্ধব আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
এছাড়া ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন সেনাসদস্যদের কার্যক্রম তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং দায়িত্ব পালনে পেশাদারি, ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর