আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি ২৯৮ সংসদীয় আসনে ১২১টি কেন্দ্রকে "ঝুঁকিপূর্ণ" এবং ৬৮টি কেন্দ্রকে "অধিক ঝুঁকিপূর্ণ" কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব কেন্দ্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন খাগড়াছড়ি আসনের চার প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী বিএনপির ওয়াদুদ ভূইয়া, জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজা, গণ অধিকার পরিষদের দীনময় রোয়াজা এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. নুরুল ইসলাম।
প্রার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া। লিখিত বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, 'খাগড়াছড়ি আসনের ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১২১টি কেন্দ্র 'ঝুঁকিপূর্ণ' ও ৬৮টি কেন্দ্র 'অধিক ঝুঁকিপূর্ণ (রেড মার্ক)' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাঠপর্যায়ের তথ্যে উঠে আসা এই উদ্বেগজনক বাস্তবতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে।' তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'ইতোমধ্যে কতিপয় সশস্ত্র সংগঠন তাদের পছন্দের প্রার্থীর অনুকূলে ভোট আদায়ের লক্ষ্যে সাধারণ ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি প্রদান করছে; এমনকি কোথাও কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনাও পরিলক্ষিত হয়েছে। অনেক প্রার্থীকে ও তাদের কর্মীদের ওই সকল এলাকায় প্রচারণায় যেতে নিষেধ করেছে।'
ওয়াদুদ ভূইয়া আরও বলেন, 'নির্বাচনের তারিখ নিকটবর্তী হওয়ার সাথে সাথে খাগড়াছড়ি সদর, মহালছড়ি, পানছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, দীঘিনালা ও রামগড়ের দুর্গম অঞ্চলসহ পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। সশস্ত্র সংগঠনগুলো ভোটারদের সুনির্দিষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোটদানে বাধ্য করতে শারীরিক অত্যাচার ও আর্থিক দণ্ডের ভয় দেখাচ্ছে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্রধারীরা স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি ও জনপ্রতিনিধিদের সশস্ত্র সংগঠনের নির্দেশ মানতে চাপ প্রয়োগ করছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভীতিমূলক প্রচারণা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা আশঙ্কা করছি, পাহাড়ের এসব সশস্ত্র সংগঠনের অবৈধ অস্ত্র এবারের নির্বাচনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। ইতোমধ্যে কতিপয় প্রার্থী এই সশস্ত্র সংগঠনের সহায়তায় নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আমরা এই বিষয়গুলো লিখিতভাবে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সেনাবাহিনী প্রধান, স্থানীয় সেনাবাহিনী ও বিজিবি, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার এবং পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করেছি।'
যেভাবে কেন্দ্র দখল করার সমূহ সম্ভাবনা দেখছেন প্রার্থীরা: যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছানোর পূর্বেই সশস্ত্র সংগঠন কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অপচেষ্টা, ভারত সীমান্ত সংলগ্ন ইউনিয়নগুলোতে বহিরাগত অপশক্তির অনুপ্রবেশের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, ভোটারদের মধ্যে ভীতিকর বার্তা, গুজব সামাজিক যোগাযোগ ও স্থানীয় মাধ্যমে ছড়িয়ে তাদের অপকৌশল অবলম্বন করা, প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও নিরাপত্তা কর্মীদের ভয় দেখিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অকার্যকর করার চেষ্টা করা এবং অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি ও জনপ্রতিনিধিদের সশস্ত্র সংগঠনের নির্দেশ মানতে চাপ প্রয়োগ।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ছয়টি দাবি উপস্থাপন করেন প্রার্থীরা। দাবিগুলো হলো— চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের অন্তত তিন দিন পূর্ব হতে দুর্গম এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করে কেন্দ্রের আঙিনায় ও বাহিরে অবস্থান করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্গম এলাকায় নিয়মিত টহল বৃদ্ধি করা, নির্বাচনের পূর্বরাত থেকেই কেন্দ্রভিত্তিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা, হেডম্যান, কারবারি, ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে আস্থাশীল পরিবেশ তৈরি করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচার ও নজরদারি বৃদ্ধি করা, কোনো উগ্রবাদী তৎপরতা বা অনিয়মের চেষ্টা পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান প্রার্থীরা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর