ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনী সমাবেশ করেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরের সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ উপজেলা ও সদরের চার ইউনিয়ন) আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব। সমাবেশকে সফল করতে দুপুরের পর থেকে ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে নারী ও পুরুষ নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই সমাবেশস্থল ছাড়িয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিশেষ করে নারী কর্মীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। সব মিলিয়ে নির্বাচনের চার দিন আগে দলটি তাদের শক্তির জানান দিয়েছে।
সমাবেশে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব বলেন, “৫৪ বছর পার হয়েছে। এ সময়ে দেশে ১২টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে। ১৩তম নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি। মানুষ উপলব্ধি করছে এতদিন যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা লুট ও হত্যার রাজনীতি করেছেন। সারা দেশে আমাদের হাজারো নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আজ মানুষ বুঝতে শিখেছে আমরা আর তাদের ফাঁদে পা দিতে চাই না। আমরা একটি ইনসাফভিত্তিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার রাষ্ট্র গড়তে চাই। আপনাদের ভোটে জামায়াত নির্বাচিত হলে অপশাসন ও অনিয়ম থাকবে না। শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি ন্যায়ভিত্তিক দেশ গড়ে তোলা হবে। আমাকে জামায়াত মনোনয়ন দিয়েছে। আমাদের সাথে আছে আরও ১০টি দল। আপনাদের কাছে আবেদন করতে চাই। সাংবাদিক ও আলেম-ওলামাদের সাথে নিয়ে কালীগঞ্জকে মডেল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। কৃষকদের প্রণোদনাসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে। নদী ও খাল খনন করা হবে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়া হবে। মোবারকগঞ্জ চিনিকলকে দুর্নীতির হাত থেকে উদ্ধার করে উৎপাদনশীল ও লাভজনক করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের কালীগঞ্জে একটি দলের সন্ত্রাসী হামলায় দুই ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। এ নৃশংস হত্যার বিচার করা হবে। নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে সামাজিক বলয় গড়ে তোলা হবে। মোড়ে মোড়ে অভিযোগ বক্স করা হবে। জনগণের পরামর্শ নিয়ে উন্নয়ন করা হবে। আমার কোনো অর্থ দরকার নেই, আমার কোনো লোভ নেই। আমি কালীগঞ্জবাসীর উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”
জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু শাখার নেতা বাবু পিকুল মজুমদার বলেন, “বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে দেখে এসেছি প্রার্থীরা কথা দেয় কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর আর কথা রাখে না। তারা লুটপাটের রাজনীতি করে। হোটেলে পরনারী নিয়ে পড়ে থাকে। রাতের বেলা গাছকে ধাক্কা দিয়ে বলে, গাছ তুই সরে যা আমি বাড়ি যাব। আমরা কি এ ধরনের মানুষকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাতে চাই না?” তিনি এলাকার উন্নয়নে সৎ, যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত ও শিক্ষিত জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু তালিবকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠানোর আহ্বান করেন।
সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল আলিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, মহেশপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল হক, কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা ওলিউর রহমান, সদর উপজেলার আমির ড. হাবিবুর রহমান, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি আরিফ হোসেন, ঝিনাইদহ শহর শাখার আমির অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন, কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক লুৎফর রহমান ও কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ঈশা খানসহ স্থানীয় নেতারা। সমাবেশ শেষে বিশাল একটি র্যালি কালীগঞ্জ শহর প্রদক্ষিণ করে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর