ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। অতীতের স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার অভিজ্ঞতার কারণে জেলার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের ১৭টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪৯১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৯৩৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সব ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকির আওতায় রয়েছে।
প্রশাসন জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়াতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ৫২৮টি কেন্দ্রে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে আরও ৮৪৮টি কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতার স্মৃতি এখনো টাটকা। বিশেষ করে ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেঘনা উপজেলায় একাধিক সহিংস ঘটনায় দুজন নিহত হন এবং আহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ। একই বছর দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে এবার মেঘনা ও দেবিদ্বার উপজেলার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
দেবিদ্বার উপজেলায় মোট ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে ৯৮টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের ১২৭টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, জেলার একমাত্র জামায়াত অধ্যুষিত এই আসনে ভোটের লড়াইকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার নুরুল আমিন জানান, শতভাগ ভোটকেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে।
অন্যদিকে জেলার সবচেয়ে বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে মুরাদনগর উপজেলায়—১৫৯টি। এ উপজেলার সব কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে উপজেলাজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নদীবেষ্টিত মেঘনা উপজেলায় মোট ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার জানান, চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি দল দায়িত্ব পালন করবে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মু. রেজা হাসান বলেন, অতীতের সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা করা হয়েছে। তবে জেলার সব ভোটকেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর