ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। নড়াইল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলামের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্ব›িদ্বতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিন প্রার্থীই নিজ নিজ কৌশলে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রæতি দিচ্ছেন তারা। সভা-সমাবেশে উন্নয়নের প্রতিশ্রæতির পাশাপাশি চলছে একে অপরের সমালোচনা। যদিও মাঠে আরও কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন, তাদের প্রচারণা তেমন চোখে পড়ছে না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় ভোটারদের ধারণা,“নড়াইল-২ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। প্রতিটি নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা এ আসনে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন রুপ নিচ্ছে এবং ত্রিমুখী প্রতিদ্ব›িদ্বতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পাটি ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাচাই শেষে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হান্নান সরদার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বর্তমানে ৮জন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।”
বর্তমানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চু (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম (হাতপাখা), জাতীয় পাটির প্রার্থী খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ (লাঙ্গল), গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি) মনোনীত প্রার্থী লায়ন নূর ইসলাম (ট্রাক), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মো. শোয়েব আলী (ছড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সদ্য বহিস্কৃত মো. মনিরুল ইসলাম (কলস), মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন (জাহাজ) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।
নড়াইল-২ আসনের নির্বাচনী ইতিহাস ১৯৮৬ সালে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী। ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী, ১৯৯৬ সালে বিজয়ের হাসি হাসে বিএনপি। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে জয় পায় বিএনপি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, ২০১৪ সালে নির্বাচিত হন জোটসঙ্গী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হাফিজুর রহমান। এরপরের দুইটি নির্বাচনেও জয় ধরে রাখে দলটি। আর সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
লোহাগড়া উপজেলা ও নড়াইল সদর উপজেলার (আংশিক) দুটি পৌরসভা এবং ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে নড়াইল-২ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ১৬৪ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩২, তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ৪ জন। এর মধ্যে লোহাগড়া উপজেলার ২ লাখ ২০ হাজার ৬১৬ জন এবং নড়াইল সদর উপজেলার (আংশিক) এলাকায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৮ জন। লোহাগড়া উপজেলার পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯ হাজার ১৯১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ১১ হাজার ৪২৩, তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ২ জন। নড়াইল সদর উপজেলার (আংশিক) পুরুষ ভোটার ৮০ হাজার ৯৩৭ জন, নারী ভোটার ৮৪ হাজার ৬০৯, তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ২ জন।
ভোটারদের মতে, “ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও কলস প্রতীকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। সাধারণ ভোটার, আওয়ামী লীগ সমর্থক, হিন্দু সম্প্রদায় ও তরুণ ভোটারদের ভোট যে প্রার্থীর দিকে যাবে, তার জয় অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে শেষ সময়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। সাধারণ মানুষ চাইছেন এমন একজন জনপ্রতিনিধি, যিনি জনগণের পাশে থাকবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। রাজনৈতিক পর্যেবক্ষকদের মতে, নড়াইল-২ আসনে এবারের নির্বাচন বেশ প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। এখন অপেক্ষা আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি নির্বাচনে কার পক্ষে ব্যালট ভারী হয়।”
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর