জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপ রাষ্ট্র কমনওয়েলথ অব ডোমিনিকার পাসপোর্ট নিয়েছেন— এমন দাবি সংবলিত পোস্ট ফেসবুকে চাউর হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ মতাদর্শের অনুসারীরা এমন পোস্ট ব্যাপক শেয়ারও করেছেন। সঙ্গে নাহিদের নামে কথিত পাসপোর্টের একটি ছবিও পোস্ট করা হয়েছে।
জনকৌতুহলের জায়গা থেকে বিষয়টি যাচাই করে দেখেছে দ্য ডিসেন্ট। ফ্যাক্ট চেকিংভিত্তিক এ অনলাইন পোর্টাল বলছে, নাহিদের নামে ছড়ানো পাসপোর্টটি ভুয়া। নকল পাসপোর্টটিতে অন্তত চারটি অসঙ্গতি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।
অসঙ্গতিগুলো হলো
প্রথমত, রিভার্স ইমেইজ সার্চ করে দেখা যায়, উরুপেরু নামে একটি ওয়েবসাইটে কমনওয়েলথ অব ডোমিনিকার পাসপোর্টের একটি টেমপ্লেট পাওয়া গেছে, যা ফটোশপ সফটওয়্যারে সম্পাদনাযোগ্য। ওই টেমপ্লেটে ব্যবহৃত বারকোডটি স্ক্যান করে যে নম্বর পাওয়া যায়, তার সঙ্গে নাহিদ ইসলামের নামে ছড়ানো পাসপোর্টে ব্যবহৃত বারকোড স্ক্যান করে প্রাপ্ত নম্বর হুবহু মিলে যায়।
আবার বারকোডে পাওয়া পাসপোর্ট নম্বর (আরএ০১৫০৬০) আর ভুয়া পাসপোর্টের গায়ে লেখা নম্বরের (আরএ০১৫৩০৮) মিল নেই।
অর্থাৎ, অনলাইনে পাওয়া টেমপ্লেটটি এডিট করে নাহিদের নামে ভুয়া পাসপোর্টটি বানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ভুয়া পাসপোর্টে ব্যবহৃত নাহিদের ছবিটি অনলাইন থেকে নেওয়া। সেটি দৈনিক প্র থম আ লো নাহিদ ইসলামের একটি সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় তুলেছিল। ২০২৫ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ হয়। প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন ভঙ্গির পাঁচটি ছবি ব্যবহার করা হলেও ভুয়া পাসপোর্টে থাকা ভঙ্গির ছবিটি ব্যবহার করা হয়নি। সেটি ব্যবহার করা হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ‘নাহিদ ইসলাম যা লিখলেন তার পদত্যাগপত্রে’ শিরোনামে প্রকাশিত অন্য একটি প্রতিবেদনে।
ভুয়া পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ লেখা আছে ২০ এপ্রিল, ২০২৫। অর্থাৎ, পাসপোর্টে ব্যবহৃত ছবিটি অনলাইনে পাওয়া যায় তারও আগে থেকে।
তৃতীয়ত, ভুয়া পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে শহরের নাম (ঢাকা) ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ডোমিনিকার পাসপোর্টে শহরের নাম নয়, বরং জন্মস্থান হিসেবে দেশের নাম থাকে। অনলাইনে বিভিন্ন ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ করা অন্তত ১০টি পাসপোর্টের কপি যাচাই করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চতুর্থত, নাহিদের অফিসিয়াল স্বাক্ষরের সঙ্গে ভুয়া পাসপোর্টে ব্যবহৃত স্বাক্ষরের মিল নেই।
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া নাহিদের হলফনামা এবং নির্বাচনি ব্যয় ও ব্যক্তিগত সম্পদের বিবরণীতে ব্যবহার করা স্বাক্ষরের সঙ্গে উল্লিখিত পাসপোর্টে ব্যবহৃত স্বাক্ষরের কোনো মিল নেই।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর