• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১০ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০১:১৪ দুপুর

চট্টগ্রামে ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

ব্যাংকের ভাষায়, বিপুল এই অর্থের ‘ঘাটতি’ পাওয়া গেছে। টাকা বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের বলে জানিয়েছে ব্যাংক। এ ঘটনায় করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন মো. জাফরুল্লাহ তানভীর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা যদি সত্যিই ভল্ট থেকে সরানো হয়ে থাকে, তাহলে এত বিপুল অর্থের ঘাটতি এক বছরের বেশি সময় ধরে ধরা পড়ল না কেন? প্রতিদিনের ক্যাশ ও ভোল্টের হিসাব কে যাচাই করতেন? শাখা ব্যবস্থাপনার তদারকি কোথায় ছিল?

কোতোয়ালি থানায় করা মামলার নম্বর ২২/৪৩৮। এতে দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ (৫৮)। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন।

গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তী হিসাব-নিকাশ, ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায় বলে এজাহারে
উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, কামরুল হোসেনকে ঘাটতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। পরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় তিনি ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। 

মামলার দ্বিতীয় আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ ব্যাংকের এজাহারে থাকা বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নয়। সে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করে। অথচ তাকে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমার ছেলের কাছে এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণও দেখানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে আমার স্ত্রীর মোবাইলে ব্যাংক থেকে ফোন করে বলা হয়, আমার ছেলে লালদীঘি ব্যাংকে আটক আছে। টাকা নিয়ে যেতে বলা হলেও কীসের টাকা, কত টাকা— কিছুই পরিষ্কার করে বলা হয়নি। আমার ছেলেকেও ফোনে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এর আগে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনই অন্যদিনের মতো আমার ছেলেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান। রাতেই আমরা সাত-আটজন আত্মীয়স্বজন নিয়ে ব্যাংকে যাই। কিন্তু ব্যাংকের লোকজন আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। পরে আমরা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে ওসিকে বিষয়টি জানাই। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাত আনুমানিক ২টার দিকে আবার ব্যাংকে গেলে প্রথমে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ কৌশলে ব্যাংকে প্রবেশ করে আমার ছেলেসহ কামরুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার। ব্যাংকের ভল্টে যদি ১ জুন ২০২৫ থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন বিষয়টি ব্যাংকের নিয়মিত হিসাব ও তদারকিতে ধরা পড়েনি কেন? তাদের দাবি, একটি ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেন শেষ হওয়ার পর ক্যাশ ও ভল্টের হিসাব মেলানোর নিয়ম রয়েছে। তাহলে এক বছরের বেশি সময় ধরে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি কীভাবে অজানা থাকল— এ প্রশ্নের উত্তরও তদন্তে বের করা প্রয়োজন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]