• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৭ মিনিট পূর্বে
আরিফ জাওয়াদ
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৩:৪৮ দুপুর

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য পদ থেকে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর অব্যহতি চেয়ে নিজ বিভাগ উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগে ফিরতে চেয়ে আবেদন জমা দেবেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ এ কথা বলেন উপাচার্য।

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্ট মাসে একটি ক্রান্তিকালীন সময়ে আমরা দায়িত্ব নিয়েছিলাম। মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাজকর্ম শুরু করা এবং এটিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। আজকে প্রায় দেড় বছর পর আপনাদের সবাইকে সাথে নিয়ে আমরা মোটামুটি একটি ভালো অবস্থানে আছি। আমরা অংশীজনদের ভালবাসা ও সহযোগিতায় সেই আপকালীন কিংবা বিশেষ পরিস্থিতি, এই মুহূর্তে আমরা উত্তোলন করতে পেরেছি। সুতরাং আমি এখন মনে করছি, এটি একটি দায়িত্ব পালনের পর্বে আমরা ভালো পর্যায়ে আছি এবং আমি সরে দাঁড়াতে চাই।’

উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন শূন্যতা না হয়, ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে; অংশীজনরা যদি কিছু সময় নিতে চান, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সেটি বিবেচনা করতে রাজি আছি। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি একটি নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেবেন এবং আমরা তাদেরকে পূর্ণ সহযোগিতা করব। সুতরাং, আমি সরে দাড়াচ্ছি এ কারণে যে, আমি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। এটিকে কোন সময়ই আমি নিয়মিত চাকরি মনে করিনি। উপাচার্যের দায়িত্ব আমার কাছে একটা আমানতের মত ছিল। আমাকে ছাত্ররা অনুরোধ করে ভালোবেসে এই দায়িত্বটা দিয়েছিলেন। আমাদের মতো তুলনামূলক বিবেচনায় অরাজনৈতিক মানুষদের বাংলাদেশে এই ধরনের পদে আসার সুযোগ কম। এটিকে আল্লাহর রহমত এবং ছাত্রদের মমতার অংশ হিসেবে মনে করি। আমি যতদূর পেরেছি আপনাদেরকে সাথে নিয়ে এখন একটু স্থিতিশীল অবস্থায় এসছি। আমি সরে দাঁড়াতে চাই, যাতে রাজনৈতিক সরকার তার মত করে তার প্রশাসন সাজিয়ে নিতে পারে। সেই ক্ষেত্রে যদি তাদের কোন আমার সহযোগিতা দরকার হয় সেটি করতে আমি প্রস্তুত আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখন বর্তমানে ডেপুটেশনে আছি এই পদে। ডেপুটেশনে পজিশন থেকে আমি অব্যাহিত চাইবো এবং আমি আমার যে মূল কাজ শিক্ষকতা, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড ১ অধ্যাপক হিসেবে আমি ফেরত যেতে চাই। এই মুহূর্তে আমি হঠাৎ করে কোন শূন্যতা সৃষ্টি করছি না আর পদত্যাগ করে চলে যাচ্ছি না।’

কেনই এই সময়ে পদত্যাগ করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘কেননা আমি যদি এটি (পদত্যাগ) নির্বাচনের পরে করি তাহলে যেটা মনে হবে নতুন সরকারের সাথে আমার কোন মনোমালিন্য আছে। সেটি তো নেই! আমি একটি বিশেষ পরিস্থিতি এসেছিলাম, এখন সেই পরিস্থিতিটা নেই পরিস্থিতি অগ্রগতি হয়েছে। সুতরাং, আমি এই ভালো অবস্থা থেকে আমি বিদায় নিতে চাই।’

বিদায় নেওয়া প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি মহামান্য আচার্যকে আমি লিখব যে, এই ডেপুটেশন থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়ে উন্নয়ন অধ্যাপক বিভাগে গ্রেড ১ অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যেতে চাই।’

চাপের পড়ে বিদায় নিচ্ছে কি-বা জানতে চাইলে ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘আমি খুব সাধারণ মানুষ কিন্তু আমি চাপে নত হওয়ার মানুষ না।’

দায়িত্ব পালনে দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে বিএনপি, জামাত, এনসিপির প্রধানের কাছে গিয়েছি। তারা প্রত্যেকে আমাকে অসাধারণ সম্মান জানিয়েছে। তারা ভালো করে জানেন, আমি রাজনীতির মানুষ না। গত ১১ মাসের কোন রকমের বড় মাপের সংঘাত-রক্তপাত হয়নি। কারণ রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এবং ছাত্র সংগঠনগুলো মোটামুটিভাবে একটা পরিমিতিবোধ এবং সহনশীলতা দেখিয়েছেন। এটি আমার প্রতি তাদের একটি বড় উপহার। এখনও মনে করি, রাজনৈতিক দলগুলো একটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মানুষকে যতটুক সহযোগিতা করা সম্ভব, তারা আসলে তা করেছে। তাই এটা মনে যেন না হয় যে, কোন রাজনৈতিক সরকারের প্রতি বিরূপ হয়ে আমি চলে যাচ্ছি। আমার দায়িত্ব যে মাপকাপঠির ভিত্তিতে আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম; আমার বিবেচনায় সেই মাপকাপিঠি অর্জিত হয়েছে, আমি বিদায় নিতে চাই।’

নির্বাচিত সরকার পদে রাখতে চাইলে থাকবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘এই মুহুর্তে আমি ক্লান্ত। মূল বিষয় আমি ধারাবাহিকতা রাখতে চাই। সবাই মিলে রক্ত পানি করে, এই বিশ্ববিদ্যালয় একটা পর্যায়ে এসছে। হঠাৎ করে যেন কোন শূন্যতা না হয় সেটিই আমি করব। কিন্তু এরপরে কি হবে, আমি বিবেচনা করতে চাই। তারাও (নির্বাচিত সরকার) সময় নিক আমিও সময় নিই।’

এর আগে গত ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩০তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ড. নিয়াজ আহমেদ খান। ওই বছরের ১০ আগস্ট ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]