নাতীর কোলে চড়ে দাদি ভোট দিতে আসেন ৯০ বছর বয়সী জহুরা হক শেরপুর (বগুড়ার) প্রতিনিধি : বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে সারা দেশের ন্যায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে কাঙ্ক্ষিত ভোটগ্রহণ। শীতের সকাল উপেক্ষা করে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও নারী ভোটারদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ হতে থাকে ভোটারদের সারি। শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ধনকুন্ডি শাহনাজ সিরাজ স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে নাতীর কোলে চড়ে দাদি ভোট দিতে আসেন ৯০ বছর বয়সী জহুরা হক। ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় তার চোখে-মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি।
তিনি বলেন, শেষ বয়সে এসে এভাবে সুন্দর পরিবেশে ভোট দিতে পারবো, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে আমি অনেক খুশি। জহুরা বেগমের মতো অনেক প্রবীণ ভোটারই এবারের সুষ্ঠু পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ভোটের চিত্র ও উপস্থিতি সরেজমিনে শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ, শাহ বন্দেগী, সিমাবাড়ি, সুঘাট ইউনিয়ন, বিশালপুর ও পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, দুপুর পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি ছিল আশাব্যঞ্জক। দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্রে ৫০% থেকে ৬০% ভোট পড়তে দেখা গেছে। কিছু কিছু কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির হার ৬৬% পর্যন্ত পৌঁছেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও পরিসংখ্যান নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ শেষ করে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
শেরপুর উপজেলায় মোট ৯৯টি ভোটকেন্দ্রে ৫৬৪টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন ৫৬৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ১,১২৮ জন পোলিং এজেন্ট। শেরপুর ও ধুনট বিবরণ শেরপুর উপজেলা মোট ভোটার ৩,০৬,৮৪১ জন পুরুষ ভোটার ১,৪৯,৮৬২ জন মহিলা ভোটার ১,৫৬,৯৭৬ জন, হিজড়া ভোটার ৩জন, ধুনট উপজেলায় মোট ভোটার ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন, পুরুষ ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৭৪৭ জন, মহিলা ১ লক্ষ ৩০ হাজার ১৬৪ জন, হিজড়া ৩ জন। এই নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা এলাকার সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে শেরপুর-ধুনট আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে 'হাড্ডাহাড্ডি' লড়াই হতে যাচ্ছে।
ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও উৎসাহ বিরাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে এবং এরপর শুরু হবে ভোট গণনা। শেষ হাসি কে হাসবেন, তা জানতে মুখিয়ে আছেন পুরো শেরপুর-ধুনটবাসী। প্রিজাইডিং অফিসার জাহিদুর রহমান সোহাগ, শফিউল আলম, আনিছুর রহমান বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমরা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পরার মত।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর