ডার্ক হোক কিংবা মিল্ক- চকলেট এখন আর শুধু একটি খাবার নয়, এটি ভালোবাসার প্রতীক। তবে এই আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্বাস্থ্যের কিছু ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক, যেগুলো জানা থাকলে চকলেট ডের উদযাপন আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
চকলেট তৈরি হয় থিওব্রোমা কাকাও গাছের বীজ থেকে। এর ইতিহাস শুরু হয়েছিল মেসোআমেরিকার প্রাচীন ওলমেক সভ্যতায়। পরে ইউরোপে আমেরিকা আবিষ্কারের পর চকলেট দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং সময়ের সঙ্গে এটি বিশ্বজুড়ে অন্যতম প্রিয় খাদ্যে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে চকলেটকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্থূলতার ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, চকলেটের প্রভাব এতটা একমাত্রিক নয়।
গবেষণায় চকলেটের উপকারিতা
নেদারল্যান্ডস জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, কোকোতে থাকা জৈব সক্রিয় ফেনোলিক যৌগ শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে ডার্ক চকলেটে কোকোর পরিমাণ বেশি থাকায় এর স্বাস্থ্যগুণও তুলনামূলকভাবে বেশি।
কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
‘দ্য জার্নাল অব নিউট্রিশন’-এর এক গবেষণায় জানা গেছে, কোকো ফ্ল্যাভানল ও উদ্ভিজ্জ স্টেরলসমৃদ্ধ চকলেট খেলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে পারে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত গরম চকলেট পান করলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ে, যা বয়সজনিত স্মৃতিশক্তি হ্রাস ধীর করতে সহায়ক হতে পারে। সপ্তাহে অন্তত একবার চকলেট খাওয়ার সঙ্গে ভালো মানসিক কর্মক্ষমতার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি
বিএমজে-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চকলেট খাওয়া ব্যক্তিদের হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। একই সঙ্গে কানাডার এক গবেষণায় বলা হয়েছে, চকলেট গ্রহণ স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব
কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ৩০ গ্রাম চকলেট খেলে ভ্রূণের বৃদ্ধি ও বিকাশে ভালো প্রভাব পড়তে পারে।
খেলাধুলায় উপকারিতা
ডার্ক চকলেটে থাকা এপিক্যাটেচিন শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদন বাড়ায়, যা অক্সিজেন ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। এতে ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স উন্নত হতে পারে।
ডার্ক না মিল্ক—কোনটি ভালো?
ডার্ক চকলেটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আয়রনের পরিমাণ বেশি এবং চিনি তুলনামূলক কম। অন্যদিকে মিল্ক চকলেটে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন থাকলেও এতে চিনি ও ফ্যাটের পরিমাণ বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যের জন্য ডার্ক চকলেটই ভালো বিকল্প। তবে ব্র্যান্ডভেদে উপাদান ভিন্ন হতে পারে, তাই কেনার আগে লেবেল দেখা জরুরি।
চকলেটের ঝুঁকি ও সতর্কতা
চকলেটে ক্যালরির পরিমাণ বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়তে পারে। বেশি চিনি থাকা চকলেট দাঁতের ক্ষয় ঘটাতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে চকলেট মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে। আবার অতিরিক্ত চকলেট গ্রহণ বয়স্ক নারীদের হাড়ের ঘনত্ব কমাতে পারে বলেও কিছু গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া কিছু কোকোজাত পণ্যে ক্যাডমিয়াম ও সিসার উপস্থিতিও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, চকলেট পুরোপুরি ক্ষতিকর নয়, আবার এটিকে ওষুধ ভাবাও ঠিক নয়। পরিমিত পরিমাণে এবং উচ্চ কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেট বেছে নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত সিদ্ধান্ত।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর