ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন চলাকালীন কোথাও হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে কুষ্টিয়ার চারটি আসনের তিনটিতে বিএনপির ভরাডুবি এবং জামায়াতে ইসলামী নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন। অপরদিকে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিজয় হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেসরকারি ভাবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন ফলাফল ঘোষণা করেন।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-২, কুষ্টিয়া-৩ ও কুষ্টিয়া-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। ভোট গণনার শুরু থেকেই তারা এগিয়ে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বিজয় নিশ্চিত করেন। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক।
তিনটি আসনে বিএনপির ভরাডুবিতে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক দুর্বলতা, প্রার্থী বাছাই এবং মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় ঘাটতি বিএনপির ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী আমির হামজা ও বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। তবে আসনটিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জয়লাভ করলেও বিএনপির একক আধিপত্য ছিলো। ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থী ও তাদের সমর্থনকারীরা ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি দেন।
এসময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার বলেন, এ বিজয় আমাদের বিজয় নয়। এ বিজয় জনগণের বিজয়। মুলত ৫ই আগষ্ট জুলাই আন্দোলনের পরে জাতির যে প্রত্যাশা ছিলো, এ দেশের ছাত্র সমাজের প্রত্যাশা ছিলো বৈষম্যহীন একটা সমাজ গড়া। সেই সূচনা থেকে জাতি সেটা ধারনা করেছে, সে ক্ষেত্রে জনগনের রায়ে বিজয় হয়েছে। আগামী দিনে আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই।
প্রশাসনের তথ্যমতে জানা যায়, জেলায় বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হয়।
এছাড়া রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনের সক্রিয়তা ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে কুষ্টিয়ার চার আসনের মধ্যে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে জানা যায়, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী রেজা আহামেদ বাচ্চু মোল্লা ১৬৫০৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বেলাল উদ্দিন ৮৫০৮৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আব্দুল গফুর ১৮৯৮১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিষ্টার রাগীব রউফ চৌধুরী ১৪৩২৮২ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মুফতী আমির হামজা ১৮২৪৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী ও তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার ১২৭৫৫৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আফজাল হোসেন ১৪৬২০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী এবং তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ১৩৮৫৭৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
এসময় বিজয়ের হাসিতে মুফতী আমির হামজা বলেন, কুষ্টিয়ার উন্নয়নে সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করবো। চাঁদাবাজির বিষয়ে জিরো টলারেন্স থাকবে। আমরা চাই কুষ্টিয়ায় অবৈধ কোন অস্ত্র থাকবে না। এতে প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। যে গুলো বৈধ আছে সেগুলো শুধু ব্যবহার করতে পারবে৷
তিনি আরো বলেন, বাস্তবতা কি হয় দেখি, দেশকে নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। তবে আমরা আশা করছি সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্নভিন্ন হবে। কুষ্টিয়া-৩ আসনে আমরা ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলাম এর মধ্যে একজন হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে যারা পরাজিত হয়েছেন তারাও আমাদের ভাই বা বোন। আমি তাদেরকে বলবো মন খারাপের কিছু নেই। তবে ইতি মধ্যে দেখেছি ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার, হাতপাখার আখন্দ ভাইসহ অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাকে ভোটাররা ভোট দিয়ে বিজয়ী করায় কুষ্টিয়াবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আল্লাহর প্রতি শুক্রিয়া আদায় করেন।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার চারটি আসনে মোট ২৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন। ভোটার সংখ্যা ১৭,৪৭,৫২১জন।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর