খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া প্রায় লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। পাহাড়বাসীর মধ্যে এখন চলছে আনন্দ-উল্লাসের ঢেউ। সে সাথে সবারই একটাই চাওয়া, প্রত্যাশা ও অপেক্ষা ওয়াদুদ ভূইয়াকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দেখার অপেক্ষা।
ওয়াদুদ ভূঁইয়া ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫১ হাজার ৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা (ঘোড়া প্রতীক) পেয়েছে ৬৮ হাজার ৩১৫ ভোট। ব্যবধান ৮২ হাজার ৭২৫ ভোট। তিনি পাহাড়ি-বাঙালি কেন্দ্রগুলোতে বিপুল ভোট পেয়েছে। তবে তার এ নির্বাচিত হওয়ার পথটা সহজ ছিলনা। ছিল পিচ্ছিল ও নানামুখী ষড়যন্ত্র। কিন্তু পাহাড়ি-বাঙালি ভোটার সে ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে ওয়াদুদ ভূইয়াকে নির্বাচিত করেছে। এখন সাধারন নাগরিকদের প্রত্যাশা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ওয়াদুদ ভূইয়ার পূর্ন মন্ত্রী।
ওয়াদুদ ভূইয়া পূর্বে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে নির্বাচিত হলে তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। তার দায়িত্ব কালে পাহাড়ে পর্যটন শিল্প,শিক্ষা,অবকাঠানো,সড়ক,কৃষি ও বিভিন্ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন হয়।
নাগরিক সমাজের দাবী একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে ওয়াদুদ ভূইয়াকে পূর্ন মন্ত্রীত্ব দেওয়া হবে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি রক্ষার অন্যতম কবচ।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য অনিমেষ চাকমা রিংকু বলেন, ওয়াদুদ ভূইয়া পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রতীক। বিগত ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালীন তিন পার্বত্য জেলা ব্যাপক উন্নয় হয়েছে। একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পূর্ণ মন্ত্রী দেওয়া হলে পাহাড়ে সুসম উন্নয়ন সম্ভব। বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ম্রাচাথোয়াই মার্মা বলেনে, অনেক প্রত্যাশা নিয়ে খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ ওয়াদুদ ভূইয়াকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত করেছেন। আশা করি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী ওয়াদুদ ভূইয়াকে পূর্ণ মন্ত্রীত্বের আসনে বসিয়ে পাহাড়ি-বাঙালির প্রত্যাশা পুরুণ করবেন।
সুজনের সহ-সভাপতি অরুণ কান্তি চাকমা বলেন, ওয়াদুদ ভূইয়াকে পাহাড়ি বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ বিপুল ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। জন প্রত্যাশা পুরুণ করতে হলে ওয়াদুদ ভূইয়াকে পূর্ণ মন্ত্রী করা প্রয়োজন। অন্যথায় তিনি জন প্রত্যাশা পুরুণ করতে পারবেনা।
বাংলাদেশ ত্রিপুরা সংসদের উপদেষ্টা ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা বলেন, ওয়াদুদ ভূইয়া পাহাড়ে সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রতীক। অতীতেও তিন পার্বত্য জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ওয়াদুদ ভূইয়াকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হলে জন প্রত্যাশা পুরুণ হবে।
খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, নানা ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে জনগণ ওয়াদুদ ভূইয়াকে লক্ষাধীক ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত করেছেন। ভোটারদের প্রত্যাশা ছিল,একমাত্র ওয়াদুদ ভূইয়াই পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সুসম উন্নয়ন করতে পারবে। কাজে জন প্রত্যাশা পুরুণে ওয়াদুদ ভূইয়াকে পূর্ন মন্ত্রী করা হবে।
ওয়াদুদ ভূইয়া ১/১১ সকারের আমল থেকে জেল,জুলুম,হামলা-মামলা শিকার হয়েছে। কিন্তু তাকে দমাতে পারেনি। হাসিনামুক্ত পরিবেশে জনগণও তার দীর্ঘ ত্যাগের স্বীকৃতি দিয়েছে। আর ওয়াদুদ ভূইয়াও তার বিজয় জনগনকে উৎসর্গ করে বলেছেন,এ বিজয়ের সকল কৃতিত্ব ও গৌরব পাহাড়ি-বাঙালি জনগণের ভালোবাসা-পরিশ্রমের প্রতিফলন।
পাহাড়বাসীর প্রত্যাশা যোগ্য নেতৃত্বকে যোগ্য স্থানে দায়িত্ব দিলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবহেলিত অঞ্চলগুলোতে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর