বঙ্গোপসাগরে পৃথক দুটি স্থানে জেলে বহরে হানা দিয়ে ২০ জন জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। সুন্দরবন সংলগ্ন সাগরের নারিকেলবাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। দস্যুদের বেপরোয়া তৎপরতায় উপকূলজুড়ে জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পূর্ব সুন্দরবনের জেলে পল্লী দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাতে অজ্ঞাত পরিচয় বনদস্যু বাহিনী দুবলার নারিকেলবাড়ীয়া চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরারত জেলে বহরে হানা দেয়।
দস্যুরা ৮টি ট্রলার থেকে ৮ জন জেলেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। অপহৃতরা হলেন—হরিদাস বিশ্বাস (৫০), গোপাল বিশ্বাস (৪৫), রমেশ বিশ্বাস (৫০), প্রশান্ত বিশ্বাস (৪৮), শংকর বিশ্বাস (৩৫), তুষার বিশ্বাস (৪০), মনিরুল বিশ্বাস (৪৮) ও উজ্জল কুমার বিশ্বাস (৪৫)। তাদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা এলাকায়।
এদিকে একই রাতে দুবলারচর সংলগ্ন সাগরের আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় জেলেদের বহরে হানা দেয় বনদস্যু সুমন-জাহাঙ্গীর বাহিনী। অস্ত্রের মুখে ১২টি ট্রলার থেকে আরও ১২ জন জেলেকে অপহরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ।
অপহৃত জেলেরা হলেন—কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রুপ কুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। তাদের বাড়ি পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি এলাকায়।
দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানান, বর্তমানে চারটি বনদস্যু গ্রুপ সুন্দরবন ও সাগর এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের দাপটে জেলেদের মধ্যে চরম ভীতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অনেক জেলে পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর