বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জয়পুরহাট জেলা শাখার আমীর ও জয়পুরহাট-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাইদ নিজ হাতে ঝাড়ু নিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার মাধ্যমে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে জয়পুরহাট শহরের পূর্ব বাজার এলাকায় এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরাসরি ঝাড়ু হাতে রাস্তায় পরিষ্কার করায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলার পাশাপাশি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
জয়পুরহাট-১ (সদর–পাঁচবিবি) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাইদ ভোরের আলো ফোটার আগেই কর্মসূচির সূচনা করেন। সড়কে জমে থাকা ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কার করে তিনি দেখান, পরিচ্ছন্নতার কাজ শুধু সরকারি কর্মচারী বা পৌরসভার দায়িত্ব নয়; বরং এটি নাগরিক সচেতনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের কাজ স্থানীয়দের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী জয়পুরহাট জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি হাসিবুল আলম লিটন, শহর শাখার আমির মাওলানা সাইদুর রহমান এবং সহকারী সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মর্তুজাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কর্মসূচীতে অংশ নেন, যা এই উদ্যোগকে একটি গণআন্দোলনে রূপ দেয়।
এ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ব্যাপারে সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাইদ বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের সেবক হিসেবে মানুষের পাশে থেকে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, রাস্তার আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে সব ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাও দূর করার প্রত্যয় রয়েছে তাদের। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচী হাতে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হাসিবুল আলম লিটন বলেন, জয়পুরহাটকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। শহর শাখার আমির মাওলানা সাইদুর রহমান জানান, সড়কে জমে থাকা ময়লা দেখে সংসদ সদস্য নিজেই ঝাড়ু হাতে নেন, যা উপস্থিত সবার মাঝে অনুপ্রেরণা জোগায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, একজন সংসদ সদস্যের এমন কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ সচরাচর দেখা যায় না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং সবাই নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখতে আরও দায়িত্বশীল হবেন।
পথচারী সাইদুল ইসলামও মনে করেন, এই উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে সমাজকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে। সামগ্রিকভাবে এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুধু একটি প্রতীকী উদ্যোগ নয় বরং জনপ্রতিনিধির জনসম্পৃক্ততার একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি যখন মাঠে নেমে কাজ করেন তখন তা জনসাধারণের সঙ্গে দূরত্ব কমায় এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের ধারণাকে শক্তিশালী করে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর