সাভারের আশুলিয়ায় শিশু গৃহকর্মীকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা ও নির্যাতনের অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম (৩৪) নামে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরেক নির্যাতনকারী জাহিদুলের স্ত্রী কৌশলে পালিয়ে গেছেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়া থানার স্মৃতিসৌধ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার আশিক ভিলা থেকে ওই চিকিৎসকে আটক করে পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী সামিয়া আক্তার সে পাবনা জেলার আমিনপুর থানার সিন্দুরীয়া গ্রামের রজব আলীর মেয়ে।
গ্রেপ্তারকৃত চিকিৎসকের নাম জাহিদুল ইসলাম। তিনি সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে কর্মকত ছিলেন। গৃহকর্মী সামিয়া পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ডা. জাহিদুল ইসলামের বাড়িতে ১১ মাস ধরে কাজ করতো।
ভুক্তভোগী গৃহকর্মী সামিয়া আক্তার বলেন,আমি ১১ মাস ধরে ওই চিকিৎসকের বাসায় কাজ করছি। প্রথম এক মাস আমাকে মারধর করেনি। কিন্তু পরের ১০ মাস আমাকে মারধর এবং গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়েছে। গরম খুন্তির ছ্যাঁকায় আমার মুখ, হাত-পা ও পিঠে অনেক দাগ হয়ে রক্ত জমে আছে।
পুলিশ জানায়, সামিয়া নামে ১০ বছরের এক শিশু ওই চিকিৎসকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিশুটিকে নির্যাতন করায় ওই চিকিৎসকের বাসা থেকে সে পালিয়ে আসে। পরে শিশুটি পথচারীদের নির্যাতনের কথা জানায়। পরে পথচারীরা জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি অবহিত করেন। এরপর আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্যাতনের সত্যতা পায় এবং চিকিৎসকের বাসায় অভিযান চালায়।
এবিষয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে অভিযান চালিয়ে নির্যাতনকারী চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তবে তার স্ত্রী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর