বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে সশস্ত্র ডাকাত দলের হামলায় দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বঙ্গোপসাগরের মংলা বয়ার পশ্চিম পাশে, পাথরঘাটা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী।
আহতদের মধ্যে নুর আলম খানকে সোমবার সকাল ১০টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। গুলিবিদ্ধ জেলেরা হলেন, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বড় টেংরা হাজির খাল ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুর আলম খান (৪৮),এবং একই ইউনিয়নের চরলাঠিমারা ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা,শাহজাহান (৪৫)। ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায় , কালমেঘা ইউনিয়নের পশ্চিম গুটাবাছা এলাকার দুলাল মিয়ার মালিকানাধীন এফবি জাহিদ নামক একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে মংলা বয়ার পশ্চিম দিকে তারা মাছ ধরছিলেন। সকাল আনুঃ ৬টার দিকে হঠাৎ একটি ট্রলার তাদের দিকে ধাওয়া করে। কাছে আসতেই বুঝতে পারেন, সেটি একটি সশস্ত্র ডাকাত দলের ট্রলার। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা নিরুপায় হয়ে জাল কেটে দেন এবং দ্রুতগতিতে ট্রলার চালিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
কিন্তু ডাকাত দল তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয় বলে জানান নুর আলম খান। এ সময় তিনি নিজে পিঠে গুলিবিদ্ধ হন এবং একই ট্রলারে থাকা শাহজাহান চোখে গুলিবিদ্ধ হন। ট্রলারটিতে মোট ১৪ জন জেলে ছিলেন। নুর আলমের ধারণা, ডাকাত দলের ট্রলারটিতে ১০ থেকে ১২ জন অস্ত্রধারী ছিল। তাদের ট্রলারটি ধরতে ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে ডাকাত দল সরে যায়। পরে আহতদের নিয়ে তারা ট্রলার চালিয়ে মহিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
নুর আলম খান আরও জানান, গত দুই মাস ধরে গভীর সমুদ্রে ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর সাগরে নিরাপদে মাছ শিকার করতে পারব না।
জানতে চাইলে বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন জাহাঙ্গীর নামক একটি ডাকাতবাহিনী সম্প্রতি নদী ও সাগরে একের পর এক ডাকাতি করে আসছে।
তিনি বলেন উল্লেখিত বাহিনী মুক্তিপণের দাবিতে পাথরঘাটা সহ বিভিন্ন জায়গার একাধিক ছেলেকে অপহরণ করেছিল মুক্তি পন দিয়ে অনেক জেলেরা বাড়িতে ফিরে আসতে পারলেও এখন পর্যন্ত চার জেলে জাহাঙ্গীর বাহিনীর জিমেই রয়েছে।
গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন এরকমের চলতে থাকলে জেলেরা সাগরে মাছ শিকার করতে যেতে পারবেনা তিনি, এ ব্যাপারে প্রশাসনের যথাযথ ব্যবস্থা দাবি করেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর