আত্মশুদ্ধির মাস পবিত্র মাহে রমজান চললেও সাভার ও আশুলিয়ার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আশুলিয়ার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পণ্যের দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। দ্রব্যমূল্যের সিন্ডিকেটের প্রভাবের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
রমজানের ৮ দিন পার হলেও চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুরসহ ইফতারের নানা উপকরণের দাম কমেনি। বরং অনেক পণ্যের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে রমজানের আধ্যাত্মিক প্রশান্তির বদলে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে বাড়তি আর্থিক চাপ।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, লেবুর হালি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খেজুরের দাম আগের তুলনায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজি ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৭৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শাক-সবজি, মাছ-মাংস, চাল-ডাল ও ফলের আড়তগুলোতেও দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বিক্রেতারা দাম স্থিতিশীল রয়েছে দাবি করলেও ক্রেতাদের অভিযোগ, অধিকাংশ পণ্যের দামই নাগালের বাইরে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার চালানোই নাভিশ্বাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাব্বুল নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাইরের দেশগুলোতে রমজান মাসে পণ্যের দাম কমে, আর আমাদের দেশে উল্টো বাড়ে। আমরা সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়ে যাচ্ছি। যে বেতন পাই, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন,এদেশে একবার কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তা আর কমতে দেখি না। দিনদিন দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, কিন্তু আয় বাড়ছে না।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, রমজানের শুরু থেকেই আমরা বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চালু রেখেছি। অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সাধারণ মানুষের দাবি, বাজারে সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর