বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে রোখসানা আক্তার রুপা (২৫) নামের এক গৃহবধূর শরীরে গরম তেল ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এতে ওই গৃহবধূর পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। তবে একটু সুস্থ হলে আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানান ভুক্তভোগী গৃহবধূ রোখসানা আক্তার রুপা।
জানা যায়, গত শুক্রবার ইফতারের আনুমানিক ২০ মিনিট আগে উপজেলার দশমাইল দড়িপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাশুড়ির নাম বিউটি বেগম। হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রোখসানা আক্তার রুপা শাজাহানপুর উপজেলার কাঁটাবাড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন-চার বছর আগে শেরপুরের দশমাইল দড়িপাড়া এলাকার মো. ফারুক আহম্মেদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নির্যাতিতা গৃহবধূর মা জেসমিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, "বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি বিউটি বেগম আমার মেয়েকে যৌতুকসহ নানা অজুহাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। শুক্রবার ইফতারের আগে রুপা রান্নাঘরে কাজ করছিল। এ সময় তাঁর শাশুড়ি পেছন থেকে গরম তেল তাঁর পিঠে ঢেলে দেন। মেয়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শাশুড়ি বিউটি বেগম। তিনি দাবি করেন, "আমার ছেলের বউ নিজেই নিজের গায়ে গরম তেল ঢেলে আমাদের ফাঁসানোর নাটক সাজিয়েছে।"
স্বামী ফারুক আহম্মেদ বলেন, "ইফতারের পূর্বে আমার স্ত্রী রুপা আমাকে তাঁর মায়ের বাড়িতে একটি কাজের জন্য পাঠিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর মোবাইলে জানান, শাশুড়ি গায়ে গরম তেল ঢেলে দিয়েছেন। আমার মায়ের সঙ্গে কিছুদিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। কিন্তু কে তেল দিয়েছে তা জানি না। তবে মা বয়স্ক, চোখে কম দেখেন। মা এ কাজ করতেই পারেন না। ওই সময় মা অন্য রুমে ছিলেন।"
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, "ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর