রাজধানীর পশ্চিম ধানমন্ডিতে স্কুলসংলগ্ন বাড়ি ও রাস্তার কুকুর-বিড়ালকে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ও খাবার দিয়ে আসছেন সৈয়দা নাসরিন আক্তার। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় জাকির হোসেন সান্টু (৫৫) নামের এক ব্যক্তি তার কাজে বাধা দেন। শুধু তাই নয়, নাসরিন আক্তারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় মাওলানা আকরাম খাঁ হলে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাসরিন আক্তার জানান, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং পেশায় ধানমন্ডি শাখার বুলবুল ললিতকলা একাডেমির শিক্ষিকা। পশ্চিম ধানমন্ডি আলি হোসেন ও ইউসুফ স্কুল সংলগ্ন এলাকায় তিনি কুকুর-বিড়ালকে ভালোবাসে চিকিৎসা ও খাবার দেন। এ কাজে এলাকার অনেক বাড়িওয়ালা তাকে উৎসাহিত করেন এবং সাহায্য-সহযোগিতা করেন। বিশেষ করে ৭৭ নং বাড়ির মানু ভাই ও ৬৩/২ নং বাড়ির দুলাল ভাই তাকে এই কাজ চালিয়ে যেতে অনুরোধ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৩/০২/২০২৬ তারিখে রাত ৮.৩৫ ঘটিকার সময় নিজ স্কুলে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ৭৬নং বাড়ির সামনে জাকির হোসেন সান্টু (৫৫) পেছন থেকে তাকে ‘তুই’ সম্বোধন করে ডাকেন। সান্টু তাকে বলেন, "তুই এখন এই মুহূর্তে আমার সামনে এই ধানমন্ডি এলাকার সব কুকুর-বিড়ালকে বস্তাবন্দি করে তোর ঘরে নিয়ে তোর বাপ-আর স্বামীকে দিয়ে সেবা-যত্ন করবি। এই এলাকায় আর কোনোদিন আসবি না। যদি আসিস তাহলে তোকে আমি গুলি করে মারবো।"
প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে তাকে অবরুদ্ধ করে রেখে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করা হয়। নাসরিন আক্তার তার অপরাধ জানতে চাইলে সান্টু বলেন, "তোর অপরাধ হলো কুকুর-বিড়ালগুলো খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখিস আর রাতে বিভিন্ন সময় ওদের চিৎকারে আমাদের ঘুমের সমস্যা হয় এবং বাড়ির ভাড়াটিয়াগুলো চলে যায়।" ভয়ে তিনি চলে আসার চেষ্টা করলে সান্টু আবারও তাকে কুকুর-বিড়াল নেওয়ার জন্য জবরদস্তি করেন।
এক পর্যায়ে তিনি ৭৭নং বাড়ির মানু ভাইয়ের দোকানের সামনে গিয়ে তাকে বিষয়টি অবগত করেন। মানু ভাই সান্টুকে শান্ত করার চেষ্টা করলে, তিনি দেখেন দোকানের ভেতরে ৭-৮ জন বাড়িওয়ালা এবং সান্টুর বড় ভাই দুলাল বসে আছেন। অসহায়ভাবে দুলাল ভাইকে জানালে তিনি দুই হাত জোড় করে বলেন, "আপা আপনি আর এই এলাকায় আসেন না, কুকুর-বিড়ালকে খাওয়ানোর আর চিন্তা করেন না। আমি নিজেই যন্ত্রণার মধ্যে আছি।"
নাসরিন আক্তার আরও জানান, গত ০৫ জুলাই/২০২৫ তারিখে বিকাল ৪.২০ ঘটিকায় সেন্টুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু সামীউল ইসলাম তারা (৭৭ নং বাড়ি) একইভাবে তাকে পেছন থেকে ডেকে অশ্লীল ও অশ্রাব্য ভাষায় হেনস্থা করেন এবং প্রাণে মারার হুমকি দেন। সে সময় তিনি আইনের সহযোগিতা নিতে চাইলে মানু ভাই, দুলাল ভাইসহ এলাকার অনেকেই ব্যক্তিগত মীমাংসা করে দেন এবং আশ্বস্ত করেন যে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না। যদি ঘটে তাহলে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন। কিন্তু ১৩/০২/২০২৬ তারিখে সেন্টু আবারও ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটান এবং তার বন্ধু সামীউল ইসলাম তারার নাম উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানায় জিডি করা হয়েছে, জিডি ট্র্যাকিং নং- SLXOW2, জিডি নং-১২৩৬, তারিখ: ২২/০২/২০২৬ইং।
তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে তার কথাগুলো প্রশাসনের নজরে আনার এবং দ্রুত বিচার পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর