মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে চীনের ঘনিষ্ঠ দুই মিত্রের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে চীনে জ্বালানি তেল সরবরাহের রাস্তা পুরোপুরিই হুমকির মুখে পড়েছে।
জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে আমেরিকা। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনি। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে চীনের দুই মিত্রের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই হামলার বড় একটি কারণ জ্বালানি তেল। দুটি দেশই তাদের মোট জ্বালানি তেলের বেশিরভাগ চীনের কাছে রপ্তানি করে। গত বছর ভেনেজুয়েলার অর্ধেক ও ইরানের প্রায় সম্পূর্ণ রপ্তানিই চীনে গেছে বলে ডাটা অ্যানালিটিকস ফার্ম কেপলার জানিয়েছে। এ দুই দেশের সম্মিলিত রপ্তানি চীনের মোট জ্বালানি আমদানির ১৫ শতাংশ।
টরটয়িজ ক্যাপিটালের পোর্টফোলিও ম্যানেজার রব থামেল মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও আমেরিকার সংঘাতে সম্ভাব্য প্রধান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্চে চীন। কেননা, দেশটি তার চাহিদার তুলনায় কম জ্বালানি তেল উৎপাদন করতে পারছে।
তিনি বলেন, ‘উচ্চমূল্য অর্থনৈতিক উন্নতিতে প্রভাব ফেলতে পারে; কিন্তু বাস্তব সরবরাহ এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, চীনকে তার অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়।’
ইরানের ওপর ইসরাইল-আমেরিকার আগ্রাসনকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। এছাড়া আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা ও এর মাধ্যমে ইরানে ক্ষমতাসীনদের পরিবর্তনে ওয়াশিংটনের হুমকির নিন্দা জানান তিনি। তবে এসব কিছুর বাইরে যে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গেছেন, তা হলো সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব।
জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে চীন ও অন্য এশীয় দেশগুলোর অর্থনীতি ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এরই মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা করেছে তেহরান। ইরানি আধাসরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে এ পথ অতিক্রমের সময় এক তেল ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। এর জেরে এরই মধ্যে সারা বিশ্বে তেলের দাম বেড়ে গেছে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর