ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসন একদিকে তাৎক্ষণিক হামলার আশঙ্কার কথা বলছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির যুক্তি তুলে ধরছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এসব দাবির পক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ খুব কমই উপস্থাপন করা হয়েছে। খবর- কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা।
সোমবার হোয়াইট হাউসে বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান যদি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “অসহনীয় হুমকি” হবে।
অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তি দেন, ইসরাইল ইরানে হামলার পরিকল্পনা করছিল এবং সে ক্ষেত্রে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানতে পারত। তাই “প্রি-এম্পটিভ” বা আগাম হামলা চালানো হয়েছে।
প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা, যারা সাম্প্রতিক গোপন ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়েছেন, বলেছেন—ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাৎক্ষণিক হামলার কোনো স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
সিনেটর টিম কেইন সিএনএনকে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আসন্ন হামলার মতো কোনো হুমকির প্রমাণ আমি দেখিনি।” একই ধরনের মন্তব্য করেন সিনেটর মার্ক ওয়ার্নারও।
ওয়াশিংটনভিত্তিক Arms Control Association–এর নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিমবল বলেন, ইরান তাৎক্ষণিকভাবে পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছিল—এমন দাবির পক্ষে প্রমাণ নেই। তার মতে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থাকলেও তা আন্তঃমহাদেশীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে আরও বহু বছর লাগতে পারে।
যুদ্ধক্ষমতা আইন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক
১৯৭৩ সালের War Powers Act অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। ডেমোক্র্যাটরা এখন এই আইনের আওতায় কংগ্রেসের ভোট চেয়ে চাপ বাড়াচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো দ্রুত ও সীমিত সময়ের মধ্যে অভিযান শেষ করে কংগ্রেসীয় অনুমোদনের বিতর্ক এড়িয়ে যেতে চাইছে।
জেসিপিওএ চুক্তি থেকে সরে আসার প্রভাব
সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন Joint Comprehensive Plan of Action (জেসিপিওএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়। সেই চুক্তির আওতায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত রেখেছিল। চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর ইরান ধীরে ধীরে সমৃদ্ধকরণ বাড়ায়।
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে কাজ করা সংগঠন প্লাউশেয়ার্সের প্রেসিডেন্ট এমা বেলচার বলেন, “আমরা আজ যে পরিস্থিতিতে, তার বড় কারণ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পরিত্যাগ করা।”
‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ন্যারেটিভ
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হামলাকে “স্পষ্ট ও সিদ্ধান্তমূলক মিশন” হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এটি কোনো “রেজিম চেঞ্জ যুদ্ধ” নয়। তবে হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন এবং একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা মারা গেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় অপরিহার্য। তবে জনমত জরিপে দেখা গেছে, হামলার পক্ষে স্পষ্ট জনসমর্থন এখনও গড়ে ওঠেনি; অনেক আমেরিকানই পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চিত।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং মার্কিন হতাহতের সংখ্যা বাড়লে প্রশাসনকে আরও কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর