মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। শনিবার (৬ জুন) সকালে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৫৪ ডলারে নেমে আসে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি সীমিত বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি তেল সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কমে যাওয়ায় বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।
অয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, বেইজিং সময় শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৯৪ ডলার কমে ৯৩ দশমিক ০৯ ডলারে দাঁড়ায়। এতে ব্রেন্টের মূল্য ২ দশমিক ০৪ শতাংশ হ্রাস পায়।
একই সময়ে মুরবান অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৮২ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমে আসে, যা শতাংশের হিসাবে ৩ দশমিক ০২ শতাংশ পতনের সমান।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বেঞ্চমার্কেও দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। ডব্লিউটিআই মিডল্যান্ডের দাম ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ১৭ ডলারে, মার্স অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে ১১২ দশমিক ২১ ডলারে এবং ওয়েস্টার্ন কানাডিয়ান সিলেক্টের দাম ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমে ৮০ দশমিক ৬৯ ডলারে নেমেছে।
তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস ও হিটিং অয়েলের দামও কমেছে। তবে ডিজেলের দামে সামান্য, অর্থাৎ ০ দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে।
চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই কৌশলগত প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলের যেকোনো রাজনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে এই নৌপথে তেল পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর