ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি দাবি করেন, ভোট গণনা, রেজাল্ট শিট প্রস্তুত এবং ফলাফল ঘোষণাসহ নির্বাচনের প্রতিটি পর্যায়েই কারচুপি করা হয়েছে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান-কে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান তিনি।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে ঢাকা মহানগরী শাখার উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন মোড়, বিজয়নগর ও নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যের জবাবে প্রশ্ন তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া আর কোনো বিরোধী দল আছে কি না—এ প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি বলেন, “আপনি বলেছেন, যারা বিরোধী দলে আছে, তাদের মেইন স্ট্রিমে আসতে দেওয়া হয়নি। আমরা মনে করি, আপনি একা এই ইঞ্জিনিয়ারিং করেননি। অনুগ্রহ করে জানান, আর কারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল।”
রিজওয়ানা হাসানকে তার বক্তব্যের ভিডিও পুনরায় দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনি বলেছেন, ‘আমি রাজনৈতিক দলকে বোঝাইনি, উগ্রবাদকে বোঝাতে চেয়েছি।’ কিন্তু আপনার কথাতেই আবার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিক যখন বলেছেন যে তাদের একটি অংশ বিরোধী দলে রয়েছে, তখন আপনি বলেছেন—‘বিরোধী দলে থাকলেও আমরা তাদের মেইন স্ট্রিমে আসতে দিইনি।’ এ ধরনের মন্তব্যের অর্থ কী?”
মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, সংসদে কোনো উগ্রবাদী দল নেই। যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তারা সবাই নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। ইসলাম কখনো উগ্রবাদ বা চরমপন্থাকে সমর্থন করে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রিজওয়ানা হাসানকে ‘আত্মস্বীকৃত রাজসাক্ষী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “বিরোধী দল বলতে আপনি কাদের বোঝাতে চেয়েছেন, সেটি আপনাকেই পরিষ্কার করতে হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এক সাক্ষাৎকারে রিজওয়ানা হাসান বলেছেন—যদি তিনি কোনো ‘মব’-এর শিকার হন, তবে এর দায় জামায়াত-শিবিরকে নিতে হবে। এ মন্তব্যকে উসকানিমূলক বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে ‘লন্ডন ষড়যন্ত্রের হোতা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশে যেসব তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকার ছিল, সেসব সরকারের কোনো উপদেষ্টা পরে মন্ত্রিসভায় যোগ দেননি। তার দাবি, এবার সরকারের ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে যে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে, তার পুরস্কার হিসেবেই খলিলুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে যাঁরা তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিলেন, তাদের সরকারেই তিনি পরে যোগ দিয়েছেন। ডিপ স্টেটের প্রভাবেই তাকে আবার ক্যাবিনেটে নেওয়া হয়েছে।”
সবশেষে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগের সত্যতা প্রকাশ করার দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “বিরোধী দলে থাকলেও তাদের মেইন স্ট্রিমে আসতে দেওয়া হয়নি—এই বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ কী, সেটি জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া উচিত।”
সর্বশেষ খবর