ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ১৩টি উন্নতমানের ড্রোন তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর ক্ষেপণাস্ত্র ও কামান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে গুলি করে নামানো হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর Khatam al-Anbiya Central Headquarters শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, শুক্রবার থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) ভূপাতিত করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভূপাতিত ড্রোনগুলোর মধ্যে মার্কিন তৈরি MQ-9 এবং ইসরাইলি Hermes ও Orbiter ধরনের ড্রোন ছিল। এগুলো ইরানের উত্তর-পশ্চিম, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ শহর Isfahan, Kerman এবং রাজধানী Tehran অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানান, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও আর্টিলারি ইউনিট ব্যবহার করে এসব ড্রোন প্রতিহত করেছে। তারা দাবি করেন, ড্রোনগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলের লোরেস্তান প্রদেশের আকাশে একটি মার্কিন MQ-9 Reaper ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে এবং রাজধানী তেহরানের কাছাকাছি একটি ইসরাইলি ড্রোনও আটক করা হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের দাবি, কয়েক দিনের লড়াইয়ে তারা একাধিক মার্কিন ও ইসরাইলি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক ডজন ড্রোন ধ্বংস বা আটক করার কথা জানিয়েছে তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে অঞ্চলজুড়ে বিমান ও ড্রোন হামলা বেড়েছে। বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স, ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর