সাভারের আশুলিয়ায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রশংসিত হয়েছেন আশুলিয়া থানা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. আবুল হোসাইন মুন্সী। পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন থেকেই যানজট নিরসন, সুপেয় পানি বিতরণ এবং অভিভাবকদের বসার জন্য অস্থায়ী ছাউনির ব্যবস্থা করায় সংশ্লিষ্টদের সাধুবাদ জানিয়েছেন পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে এসব সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রখর রোদে তৃষ্ণা নিবারণে পানি পেয়ে স্বস্তি ফিরে পান অভিভাবকেরা। উপস্থিত অনেকেই এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও মানবিক বলে উল্লেখ করেন।
এসময় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আবুল হোসাইন মুন্সীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের এমন মহৎ কাজে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তারা। তারা বলেন, আবুল মুন্সী প্রথম দিন থেকে আমাদের জন্য বসার ছাউনির ব্যবস্থা করেছেন। এর পাশাপাশি মাম পানি দিয়েছেন। এছাড়াও আমাদের ছেলে-মেয়েদের আসা-যাওয়ার জন্য যানজট নিরসনে তিনি নিজেই ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রশংসার দাবিদার তিনি। তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানেরা এগিয়ে আসলে সকলের জন্য অনেক ভালো হতো।
অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষামূলক সংগঠন স্কাউটের সদস্যরা জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তারা সার্বিক সহায়তা করছেন। তারা বলেন, আমাদের পাশাপাশি আবুল মুন্সী আমাদের যে সহযোগিতা করছেন এতে করে পরীক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরা যে সেবা পাচ্ছেন সত্যিই এতে আমরা আনন্দিত।
এদিকে, এসএসসি পরীক্ষার্থীরা বলেন, এবার সিসি ক্যামেরার আওতায় পরীক্ষা দিয়ে আমরা কোনো ভয় পাইনি, প্রশ্নও সহজ হয়েছে। এবং পরীক্ষা ভালো হচ্ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য ও থানা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. আবুল হোসাইন মুন্সীর নিজস্ব অর্থায়নে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা জেলা ওলামা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদুর রহমান দেওয়ান, কৃষক দল নেতা মো. আনোয়ার হোসাইন, ঢাকা জেলা ছাত্রদলের মো. রাশেদুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মো. খায়রুজ্জামান বতুসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে আবুল হোসাইন মুন্সী বলেন, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে আমি নিজে ও আমার নেতাকর্মীদের নিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। তীব্র গরমে বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের জন্য ছাউনির ব্যবস্থা এবং পানি বিতরণ করা হয়েছে—এটা আমার জন্য আনন্দের।
তিনি আরও বলেন, আমি নেতা হতে আসিনি, আমি আপনাদের সেবক হতে এসেছি। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কষ্ট লাঘব করাই আমার মূল লক্ষ্য। যতদিন সুযোগ পাবো, ততদিন আপনাদের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যেতে চাই।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের পরীক্ষা ভিন্নধর্মী বলে জানান গাজীরচট আকবর মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কেন্দ্র সচিব মোজাফফর হোসেন। এসময়ে তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার আওতায় কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
আশুলিয়ার গাজীরচট আকবর মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অনেকটা উপকৃত হবেন বলে অভিমত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর