নাটোরের সিংড়া উপজেলার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের থেলকুর গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় এজাহারভুক্ত ৫ জনসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে সিংড়া থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১ টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত থেলকুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেফতারকৃত এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, আলিম উদ্দিনের ছেলে তুহিন (৩৫), আফজাল হোসেনের ছেলে ওমর ফারুক (৩৪), আব্দুল জলিলের ছেলে জাহাঙ্গীর (৩৮), মৃত ইসাহক প্রাং এর ছেলে মোমিন (৫০) ও মেহের আলীর ছেলে রিংকু (২৫)।
এছাড়া সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে, মামুন হোসেনের ছেলে ইমন হোসেন (১৮), মুনছুর প্রামানিকের ছেলে দুলালু (৪০), ইয়াছিন আলীর ছেলে আমজাদ (৬৫), বেলাল হোসেনের ছেলে বিপ্লব হোসেন ও মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে রফিকুল (৩৬)। গ্রেফতারকৃত সকলেই থেলকুর গ্রামের বাসিন্দা।
সিংড়া থানা পুলিশ জানায়, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য: গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে থেলকুড় গ্রামের সিয়াম আলী গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হন। তাকে নন্দীগ্রামের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের বাড়িতে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ মরদেহ হাসপাতালে নিতে চায়। এতে পরিবারের লোকজন বাধা দেয়। পুলিশ তখন হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা মৃত্যুসনদ চায়। সেটা দিতেও অপারগতা প্রকাশ করেন পরিবারের লোকজন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে পুলিশের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করেন।
গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ১১টার দিকে নাটোরের সিংড়া উপজেলায় একটি গ্রামে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গ্রমবাসীর হামলার শিকার হয় পুলিশের তিনজন সদস্য। এ সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছিল উপজেলার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের থেলকুড় গ্রামে। নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.ব.ম আব্দুন নূর জানান, পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় এজাহারভুক্ত ৫ জনসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয় পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর