কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের নিলাম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এবার অ্যাকশনে যাচ্ছে প্রশাসন। যেকোনো মূল্যে সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িত বাকিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে।
রবিবার (৮ মার্চ) কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা।
গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকালে পাগলা মসজিদে নিলাম সিন্ডিকেটের সদস্যদের হামলায় নিলাম ডাকের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া দুই সাংবাদিকের আহত হওয়ার প্রসঙ্গটি সভায় উত্থাপন করেন কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম। তিনি পাগলা মসজিদের নিলাম সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মুল করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ আশু প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে বলেন, পাগলা মসজিদে মানতকারীদের দানের সুরক্ষার স্বার্থে নিলাম সিন্ডিকেট নির্মুল করতে হবে। এ ধরনের নৈরাজ্যকর অবস্থা চললে পাগলা মসজিদের ঐতিহ্য ও সুনাম ক্ষুন্ন হবে। নিলাম সিন্ডিকেটের হামলায় সাংবাদিকদের আহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে আশরাফুল ইসলাম বলেন, সত্য উদঘাটন করতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের আহত হওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমের উপর বড় ধরনের আঘাত। অত্যন্ত নিন্দনীয় এই ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকিরা এখনো অধরা রয়ে গেছে। তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে ভুল বার্তা যাবে।
এ প্রসঙ্গে পাগলা মসজিদ কমিটির সদস্য সচিব কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল হাসান মারুফ বলেন, নিলাম সিন্ডিকেট সেখানে একটি ভয়ের আবহ তৈরি করে রেখেছে। এই সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন মূলোৎপাটন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
নিলাম সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন এবং আনসার ও ভিডিপি’র জেলা কমান্ড্যান্ট মো. আব্দুল আলীম সভায় তাদের সুপারিশ ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, পাগলা মসজিদের নিলাম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশনে যাবো। সিন্ডিকেটটিকে অকেজো করে দেওয়া হবে। এজন্যে যা করা দরকার, তা করা হবে। এছাড়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে। অচিরেই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ প্রসঙ্গে সভায় সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. আসাদুজ্জামান কাউছার জানান, হামলার শিকার দুই সাংবাদিককে আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে তাদের যথাযথ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
এছাড়া সভায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আসন্ন ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত আয়োজন, জেলা শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ, মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার, ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধ, কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, হাওর এলাকায় জমি বিরোধ নিরসনসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার ব্যাপারে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি এড়াতে পেট্রলপাম্প থেকে অবৈধ মোটরসাইকেল জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে না বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ এর সঞ্চালনায় সভায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ মাহমুদুল ইসলাম তালুকদার, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী, কিশোরগঞ্জ সদর পৌর বিএনপি’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক, কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দিলু, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নাজমুল ইসলাম এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর