ইরান ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ২৮তম তরঙ্গ পরিচালনা করেছে, যা বিভিন্ন দিক থেকে সবচেয়ে ভারী হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইসরায়েলি টেলিগ্রাম গ্রুপ ও চ্যানেলে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর উদ্ধার ও জরুরি সেবা বাহিনীকে ব্যাপক তৎপরতা চালাতে হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় এই ২৮তম দফার ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান পরিচালিত হয়। প্রকাশিত ছবিতে অন্তত ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রকৃতপক্ষে এই তরঙ্গে ২০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একেকটি তরঙ্গে ২০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের যে ধারা দেখা যাচ্ছিল, তা কমেনি; বরং আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল অধিকৃত অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি। হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ওয়ারহেডের ধরনও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানে কাদর (Qadr) ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছে।
যদিও এ ধরনের ওয়ারহেড ব্যবহার একেবারে নজিরবিহীন নয়, তবু তা খুব বেশি দেখা যায় না। এর আগে সাধারণত খায়বার (Khaybar) এবং খোররামশাহর (Khorramshahr) ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহারের নজির বেশি ছিল।
এছাড়া এই ২৮তম দফার হামলায় ইমাদ (Emad) ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে, যার ওয়ারহেডের ওজন প্রায় এক টন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের তরঙ্গের মাধ্যমে অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচলের বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র- তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর