ইজিপি টেন্ডারে পথ্য সরবরাহের কাজ না পাওয়ায় একদল সন্ত্রাসী কর্তৃক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার উপর হামলা ও মব সৃষ্টির প্রতিবাদে মানববন্ধন এবং কর্মবিরতি পালন করেছেন চিকিৎসক ও সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এই মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালিত হয়।
বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে সকল চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে সন্ত্রাসী হামলা ও মব সৃষ্টির প্রতিবাদে ৩০ মিনিটব্যাপী মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন ডেন্টাল সার্জন ডা: গোলাম মওলা, ইপিআই কর্মকর্তা আমিরুজ্জামান, ক্যাশিয়ার বুলবুল আহমেদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে পথ্য সরবরাহের কাজ না পাওয়ায় সন্ত্রাসী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মেধা কনস্ট্রাকশনকে কাজ দেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার রুমে গিয়ে বিএনপির নামে কিছু সন্ত্রাসী চাপ দেয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা হামলা ও মব সৃষ্টি করে। তাঁদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
তাঁরা জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না হলে স্থায়ীভাবে কর্মবিরতিসহ বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি নেওয়া হবে। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, মঙ্গলবার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছানুর রহমান, বিএনপি নেতা তোফায়েল হোসেন লায়নসহ কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: নীল রতন দেবের রুমে গিয়ে আঙুল দেখিয়ে উত্তেজিত কথা বলছেন। এ সময় তাঁরা বারবার আঙুল তুলে হুমকি দেন। তাঁরা বারবার রুমের ভেতর প্রবেশ করে হুমকি দেওয়ার সময় একপর্যায়ে টেবিলে থাপ্পর দেন।
এর প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সন্ত্রাসী হামলা ও মব সৃষ্টির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি করেছেন। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছানুর রহমান জানান, পথ্য সরবরাহের টেন্ডারের অনিয়ম ও হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলতে যাই আমরা। তাঁরা কোনো নিয়মনীতি না মেনে তালিকায় থাকা ৮ নম্বর ক্রমিকের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পথ্য সরবরাহের কাজ দিয়েছেন। এ সময় উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাপ্পর দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও হামলা ও মব সৃষ্টির কথা অস্বীকার করেন তিনি।
তিনি একপর্যায়ে বলেন, এ বিষয়ে ঠিকাদারসহ আমরা রংপুরে পরিচালক মহোদয়ের সাথেও কথা বলেছি। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে টেস্ট, এক্স-রেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকলেও হাসপাতালে ব্যবসা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: নীল রতন দেব জানান, মঙ্গলবার তাঁরা আমার রুমে এসে তাঁদের মনোনীত ঠিকাদারকে পথ্য সরবরাহের কাজ দেওয়ার চাপ দেন। আমি অনলাইন প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নির্বাচন করা হয় বললে তাঁরা উত্তেজিত হয়ে হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে টেবিলের গ্লাসে থাপ্পর দেন ও মব সৃষ্টির পায়তারা করেন। এ বিষয়ে আমি থানায় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক অবহিত করেছি।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর