ইরাকের বসরা উপকূলের কাছে ইরানের হামলায় মার্কিন মালিকানাধীন একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে থাকা এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, জাহাজটিতে থাকা বাকি ১৫ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) হামলার শিকার মার্কিন মালিকানাধীন তেল ট্যাংকারটির নাম সেইফসি বিষ্ণু। ইরান দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরে পানির নিচ থেকে পরিচালিত ড্রোন হামলায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
হামলার শিকার হওয়া দুটি জাহাজের একটি মাল্টার পতাকাবাহী জেফাইরোস, আরেকটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী সেইফসি বিষ্ণু। সেইফসি বিষ্ণু জাহাজটির মালিক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেইফসি ট্রান্সপোর্ট ইনকরপোরেটেড, আর জেফাইরোস জাহাজটির মালিক গ্রিসভিত্তিক একটি কোম্পানি।
এর আগে এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেবল নিউজ নেটওয়ার্ক জানায়, বিস্ফোরকবোঝাই একটি ‘আত্মঘাতী’ ইরানি নৌকা জাহাজ দুটিতে আঘাত হেনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতেও অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ “অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের” আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য অভিযান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলে আঘাতের শিকার হয়েছে, আরেকটি ওমানের উত্তরে আগুন লাগার কারণে খালি করতে হয়েছে এবং তৃতীয় একটি জাহাজ দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করার চেষ্টা করলে যেকোনো জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেয়া হবে। এই পথ দিয়েই সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। তেহরানের হুমকি সত্ত্বেও সীমিত পরিমাণে জাহাজ চলাচল এখনও অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন বসানোর কাজে ব্যবহৃত ১৬টি জাহাজ ধ্বংস করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখন ১২তম দিনে পৌঁছেছে। এই সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপথে চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর