ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনায় সাময়িক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার জন্য ৩০ দিনের একটি বিশেষ অনুমতি (ওয়েভার) জারি করেছে ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে United States Department of the Treasury। মার্কিন অর্থমন্ত্রী Scott Bessent বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে অস্থির হয়ে ওঠা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণা আসার পর শুক্রবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমতে দেখা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার ফলে বিশেষ করে Strait of Hormuz দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রশাসন ইতোমধ্যে কৌশলগত মজুত থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি International Energy Agency-এর ৩২টি সদস্য দেশ মিলেও প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।
আইইএ বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সংকট তৈরি করতে পারে।
মার্কিন ট্রেজারির দেওয়া লাইসেন্স অনুযায়ী, ১২ মার্চ পর্যন্ত জাহাজে তোলা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। Ursula von der Leyen বলেছেন, এখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সময় নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা এড়াতেই যুক্তরাষ্ট্র এই সাময়িক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্র: Reuters।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর