নারীর অবদান তোলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, গৃহস্থালী কাজের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হলে জিডিপি (গ্রস ডমেস্টিক প্রোডাক্ট) তিনগুণ হয়ে যেতো।
সোমবার (১৬ মার্চ) নির্বাচন ভবনের বেজমেন্টে ইউএনডিপি-ইসি আয়োজিত নারী দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নারী কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। ভোটের পর অনেক অনিয়মের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে, কিন্তু মজার ব্যাপার হলো তদন্ত করে দেখেছি অভিযুক্তদের সবাই পুরুষ প্রিসাইডিং অফিসার। কোনো নারী প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আমি পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ পাইনি। ভবিষ্যতে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নারী নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, আগে নারী ও পুরুষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখের ব্যবধান ছিল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে সেই গ্যাপ এখন ১০ লাখে নেমে এসেছে। আমি নিজে দেখেছি রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে মহিলারা ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এই দৃশ্য অভাবনীয়।
সিইসি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত দাঁড়িয়ে আছে নারীদের ওপর, তাই তাদের কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। পুরুষরা কাজ শেষে বাসায় গিয়ে আরাম, কুরআন পড়েন। আর নারীরা গৃহস্থালি কাজ করেন। কাজে এটা যদি মনিটাইজ করা হতো জিডিপি তিনগুণ হতো।
নির্বাচন নিয়ে তিনি এ সময় হাস্যরসও করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের পর আমার এক সাবেক সহকর্মী ফেসবুকে লিখেছেন-মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আপনি কি কালি লাগিয়েছেন? এই কালি তো উঠছে না। আমার এখন ভয় হচ্ছে সামনে স্থানীয় নির্বাচনে এই কালি নিয়র ভোট দিতে গেলে তো ধরা খেয়ে যাবো।
সিইসি বলেন, আমি নিজেও চেক করে দেখেছি, আমার হাতের কালি এখনো আছে। আমি জানি না স্টিভ লিজ (সরবরাহকারী) কী ম্যাজিক করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই আমরা সেরা মানের কালি দিয়েছি। সাধারণত ভোট দিয়ে ঘষা দিলে কালি চলে যায়, কিন্তু এবারের কালি অবিশ্বাস্য রকম টেকসই। কালির মান যেমন টেকসই ছিল, নির্বাচনও তেমনি সুন্দর হয়েছে।
এ সময় ইউএনডিপি'র আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার, অন্য নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর