অবৈধ মাদকদ্রব্য (ফেনসিডিল) গাড়িতে নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে পলাতক আসামি ইমরানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আসামি মাসুদকে খালাস দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) কুমিল্লার বিজ্ঞ অতিরিক্ত দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মোঃ শামছুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। এসটি নং-৪৪২৭/১৮। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চালক মোঃ ইমরান হোসেন (২২) বরিশাল ঝালকাঠি রাজাপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের কুদ্দুস তালুকদারের ছেলে এবং খালাসপ্রাপ্ত আসামি মাসুদ মোল্লা ওরফে হযরত চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলাধীন হরিদাশপাড়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় উভয় আসামি আদালত কাঠগড়ায় অনুপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট মোঃ ইকরাম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৭ মে দিবাগত রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন কুমিল্লা আলেখারচর বিশ্বরোডস্থ মল্লিকা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে জেলা ডিবি পুলিশ অবৈধ মাদকদ্রব্য ৬০০ বোতল ফেনসিডিল গাড়িতে নিজ হেফাজত থেকে উদ্ধার করে। এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) নন্দন চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে ঝালকাঠি রাজাপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের কুদ্দুস তালুকদারের ছেলে চালক মোঃ ইমরান হোসেন (২২), ঢাকা গুলিস্তানের নিবাসী মোঃ আব্দুল করিম মোল্লা (৩৮) ও চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলাধীন হরিদাশপাড়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মাসুদ মোল্লা ওরফে হযরত (৩১) কে আসামি করে ১৯৯০ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ (১) এর ৩ (ক)/৩৩(১)/২৫ ধারার বিধানমতে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মোঃ শাহ কামাল আকন্দ ঘটনার তদন্তপূর্বক রাষ্ট্রপক্ষে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৮ সালের ২২ আগস্ট বিজ্ঞ আদালতে চালক মোঃ ইমরান হোসেন ও মাসুদ মোল্লা ওরফে হযরতের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ দাখিল করেন (অভিযোগপত্র নং-৮০৪)। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারে এলে ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ (১) এর ৩(খ)/২৫ ধারার বিধানমতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনক্রমে রাষ্ট্র পক্ষে ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানিঅন্তে পলাতক আসামি চালক মোঃ ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫,০০০/- টাকা অর্থদণ্ড প্রদান এবং অপর আসামি মাসুদ মোল্লা ওরফে হযরতের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট মোঃ ইকরাম হোসেন এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মুহাম্মদ সোহেল হোসাইন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর