যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জবাব দিচ্ছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনাতেও ইরান একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সমর্থকরা আশা করেছিলেন, ইরানকে দ্রুত পরাস্ত করে দেশটির ইসলামী শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করা সম্ভব হবে। তবে বাস্তবতা দেখাচ্ছে, তা হচ্ছে না।
যুদ্ধে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলেরও প্রচণ্ড ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিদিন বাড়তে থাকা যুদ্ধব্যয় দুই দেশের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।
ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রী মিকি জোহার মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
সোমবার (১৬ মার্চ) ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম রেডিও ১০৩ এফএম ব্রডকাস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ ধারণার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের মন্ত্রী জানান, সামনের দিনগুলোতে উত্তেজনা আরও বাড়বে। তাই রাষ্ট্র এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বলা যায়, যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলার সম্ভাবনা অত্যন্ত উচ্চ।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই এই সংলাপ শেষ হয়।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময় ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামের অভিযান শুরু করে। যৌথ অভিযানের প্রথম ধাক্কায় প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবার, পাশাপাশি সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররাও নিহত হন।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ১৭ দিন ধরে চলা এই পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য ইতোমধ্যেই ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন ইরানে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর