জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, সরকার সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় 'দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল খনন ও পুনঃখনন' কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের মুড়াইল গ্রাম এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি মুরালী-ভাবকি খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সাথে তিনি ওই এলাকায় একটি নারিকেল গাছ রোপণ করেন।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো ধরনের অপচয় বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। শুধু এখানেই নয়, কোনো ক্ষেত্রেই দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। সরকার এই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে, আইনের শাসন নিয়ে আসবে এবং মানুষের যে মানবিক মূল্যবোধ সেটি থাকবে। আব্দুল বারী বলেন, আজ সারা দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা সকলে জানি, এই খাল খনন কর্মসূচি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। উনার সেই দীর্ঘ ভিশনের অংশ হিসেবে আজ দেশের নদী ও খাল সচল থাকত, তাহলে আমাদের জলাবদ্ধতা এবং খরার সময় পানির সংকটের সমাধান হতো। সেই দূরদৃষ্টি থেকেই তিনি এই কর্মসূচি চালু করেছিলেন। পরবর্তীতে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই কর্মসূচি চালু রেখেছিলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর থেকেই মানুষকে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী মানুষের কল্যাণের জন্য প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন। এই রমজান মাসেও তিনি দীর্ঘ সময় অফিস করছেন এবং প্রতিটি কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা দেখেছেন, ভোট হয়ে গেছে, ভোটের কালির দাগ এখনও আমাদের আঙুল থেকে মুছে যায়নি, এর মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড চালু হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষি কার্ডের কার্যক্রমও চলছে, যা আগামী মাসেই পাইলট পর্যায়ে চলে যাবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একইসাথে খাল, নদী-নালা ও জলাধার খননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও আজ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। এরই অংশ হিসেবে আজ আমরা কালাই উপজেলার ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মুরাইল খাল খনন কাজের উদ্বোধন করলাম। জয়পুরহাট জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডির অধীনে যতগুলো খাল আছে, সবগুলোই পুনঃখননের আওতায় আনা হবে। আশা করা যায়, আগামী অর্থবছরের মধ্যেই এই কাজ করা সম্ভব হবে। এটি সম্ভব হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে, খরা মৌসুমে মানুষ পানি পাবে এবং মাছের চাষ করাও সম্ভব হবে। এটি একটি যুগান্তকারী কর্মসূচি, এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের লক্ষ-কোটি মানুষ উপকৃত হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অতিবৃষ্টির ফলে আমাদের এলাকায় আলুর জমিতে যে পানি জমে ফসল নষ্ট হয়েছে, তার মূল কারণ পানি প্রবাহিত না হওয়া। এই খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এমন সংকট থাকবে না। এখানে উপস্থিত স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে আমাদের সাধারণ জনগণ, কৃষক ভাই, আমাদের মা-বোন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ মিলে এই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করব এবং সাফল্য মণ্ডিত করব।
খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের সময় জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, নবনিযুক্ত জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীম আরা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ ওহাব, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এটিএম শাহনেওয়াজ কবির শুভ্রসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর