মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত গভীর হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম এক পর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারের ওপরে উঠলেও শুক্রবার (২০ মার্চ) তা কিছুটা কমেছে।
শুক্রবার ভোরে বৈশ্বিক মানদণ্ড Brent Crude-এর দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১০৮ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে WTI Crude ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪ দশমিক ৬ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ Strait of Hormuz কার্যত বন্ধ থাকায় বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। প্রায় ১৯ দিন ধরে প্রণালিটি অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে।
বিনিয়োগ ব্যাংক Goldman Sachs সতর্ক করে বলেছে, সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে স্থায়ী হতে পারে, এমনকি ২০০৮ সালের সর্বোচ্চ ১৪৭ ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে Benjamin Netanyahu জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পুনরায় হামলা না চালানোর বিষয়ে Donald Trump-এর আহ্বানে সাড়া দেওয়া হতে পারে। এই ঘোষণার পর বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়।
উল্লেখ্য, ইরানের South Pars gas field-এ ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান কাতারের Ras Laffan Industrial City-এ পাল্টা আঘাত হানলে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।
অন্যদিকে, রাস লাফান পরিচালনাকারী QatarEnergy জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় তাদের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গেছে এবং পূর্ণ পুনরুদ্ধারে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এতে ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তাহলে আগামী বছরগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উচ্চমূল্য ও অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র: সিএনএন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর