রাজবাড়ী জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। জেলার দশটি ফিলিং স্টেশনের একটিতেও তেল নেই, এতে যানবাহনের চালক ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
গ্রাহকদের কেউ কেউ বলছেন, পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে এই ভোগান্তি হচ্ছে এবং এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনগুলোর চারপাশে রশি বেঁধে ‘তেল নেই’ লেখা কাগজ টাঙানো হয়েছে। স্টেশনের কর্মীরা অলস সময় পার করছেন, কেউ বসে আছেন, কেউ হাঁটাহাঁটি করছেন।
তেলের অভাবে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছোটাছুটি করছেন গ্রাহকরা, কিন্তু তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
শহরের ‘কাজী ফিলিং স্টেশনে’ কথা হয় কুষ্টিয়া থেকে আসা লুৎফর রহমানের সঙ্গে। ঈদের ছুটি শেষে এই সরকারি চাকরিজীবী বাইকে ঢাকা ফেরার পথে তেল না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েন।
লুৎফর বলেন, “ছুটি শেষে ঢাকার পথে রওনা দিয়েছি। রাজবাড়ী পর্যন্ত যতগুলো তেল পাম্প পেয়েছি একটাতেও তেল নেই। আমার বাইকে তেল শেষ আমি এখন কিভাবে যাবো ?
পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে এই ভোগান্তি তা না হলে এক সঙ্গে সব পাম্পে তেল বন্ধ থাকার কথা না। সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আব্দুর রব নামের আরেকজন বলেন, “সকালে পাংশাতে গিয়েছি তেলের জন্য। সেখানে তেল পাইনি। পরে কালুখালি ও রাজবাড়ীর সব কয়টি পাম্পে ঘুরেও দেখি একই অবস্থা। চরম ভোগান্তিতে রয়েছি আমরা।
সরকার বলছে, তেল সংকট নেই আর পাম্পে আসলে তেল নেই। কারও কোনো জবাবদিহিতা নেই।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এক সঙ্গে সব পাম্পে তেল ফুরানোর কথা না। এটা পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেটে হচ্ছে। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, এদিকে নজরদারি বাড়ানোর জন্য।
‘রাজবাড়ী ফিলিং’ স্টেশনে মো. হাসেম আলীর বলছিলেন, “মঙ্গলবার সকাল থেকে অফিস। রাজবাড়ীর একটা পাম্পেও তেল পাচ্ছি না। আমি যাবো কিশোরগঞ্জ। বাইকে কমপক্ষে চার লিটার তেল প্রয়োজন। তিনটা পাম্পে ঘুরলাম, সব কয়টিতে তেল নাই আর তেল নাই। আমার কান্না পাচ্ছে ভাই।
এ সংকটের কারণ জানতে চাইলে ‘কাজী ফিলিং স্টেশনের’ ক্যাশিয়ার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ডিপো থেকে সরবরাহ না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। আর যেটুকু তেল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। যে কারণে কোনও গ্রাহক ডিপো থেকে তেল তুলছে না।
‘পলাশ ফিলিং স্টেশনের’ সহকারী ম্যানেজার বিপুল রুদ্র বলেন, “সংকটের কারণ হলো ডিপো থেকে তেল দিচ্ছে না। মন্ত্রীরা বলতেছেন, তেলের সংকট নেই অথচ ডিপো থেকে তেল দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, সোমবার আমার ৯ হাজার লিটার তেল আসার কথা ছিল, আসতেছে ৮ হাজার লিটার।
“আমাকে কিন্তু ট্রাক ভাড়া ৯ হাজার লিটারেরই দিতে হবে। চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেলে পাম্প মালিকেরা কেন গাড়ি ভাড়া বেশি দেবে?
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর