বিয়ের প্রলোভনে ডেকে নিয়ে প্রেমিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রেমিক ও তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি প্রেমিক জাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ধর্ষণের শিকার নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে এবং গ্রেপ্তার জাহিদকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকায়।
কচাকাটা থানা পুলিশ জানায়, কেদার ইউনিয়নের টেপারকুটি গ্রামের ২৩ বছর বয়সী ওই নারীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের ধারিয়ার পাড় গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে জাহিদ হাসান (২৮)-এর মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওই নারীকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিয়ের আশ্বাস দেয় জাহিদ। সন্ধ্যায় জাহিদের ফোনে বাড়ি থেকে বের হয়ে ওই নারী জাহিদের বন্ধু চর লুছনি কুড়ার পার গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে বাবু ওরফে আকাশের বাড়িতে যায়। পরে জাহিদ আরেক বন্ধু লালনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে যায়।
রাত ১১টার দিকে জাহিদ ও তার দুই বন্ধুসহ দুধকুমার নদীর আয়নালের ঘাটের দিকে যায়। পথিমধ্যে দুধকুমার নদীর তীরে একটি ভুট্টা খেতে নিয়ে গিয়ে জাহিদ তার বন্ধু বাবু ও লালন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে ওই নারী ওই এলাকার একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরদিন মঙ্গলবার রাতে কচাকাটা থানায় মামলা করলে রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি প্রেমিক জাহিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ধর্ষণের শিকার ওই নারী জানান, মোবাইল ফোনে প্রায় সাত মাস আগে জাহিদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিয়ের আশ্বাস দেয় জাহিদ। তার কথামতো তার বন্ধুর বাড়িতে যান তিনি। সেখান থেকে জাহিদ ও তার বন্ধু বাবু ও লালনসহ আয়নালের ঘাটের দিকে যান। সেখানে একটি ভুট্টা খেতে নিয়ে প্রথমে জাহিদ তাকে ধর্ষণ করে।
তিনি আরও জানান, এ সময় তার দুই বন্ধু বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার এবং লোকজন ডেকে তাদের আটক করার হুমকি দেয়। জাহিদের সহযোগিতায় তারাও তাকে ধর্ষণ করে এবং তিনজনই তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। গভীর রাতে অসুস্থ অবস্থায় সেখান থেকে এসে তিনি একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরদিন সকালে (মঙ্গলবার) তার পরিবার তাকে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে আসে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে এক নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এমন খবর পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। রাতেই মামলা দায়ের করে প্রধান আসামি জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য দু'জনকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চলছে। বিষয়টি জেলা পুলিশ গুরুত্বসহকারে দেখছে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর