• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১১ সেকেন্ড পূর্বে
মোঃ মনিরুজ্জামান
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৬, ০৩:১৫ দুপুর

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে পিটিয়ে থানায় নিয়ে গেলেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে এক সাংবাদিককে পিটিয়ে থানায় নিয়ে গেছেন স্থানীয় বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শাহিন শিকদার ও তার অনুসারীরা। আটক মাদকসহ মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় সংবাদ করার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশের সহায়তায় ওই সাংবাদিককে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শহরে এ ঘটনা ঘটে। ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সাংবাদিকের ওপর হামলা করে উল্টো তাকেই থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে বিএনপি নামধারী অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে বহিষ্কৃত ওই নেতার অপকর্মের দায় নিতে নারাজ স্থানীয় বিএনপি। তারা এ ঘটনায় আইনি সুরাহা দাবি করেছেন।

হামলার শিকার সাংবাদিকের নাম মাইদুল ইসলাম। তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘তালাস বিডি’র ও অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রতিনিধি। মাইদুল ইসলাম জানান, দুই দিন আগে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শাহিন শিকদারের বাড়ির সামনে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মাদকসহ এক ব্যক্তিকে আটকের চেষ্টা করে। ওই ব্যক্তি মাদকসহ মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। মাদকগুলো স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারের জিম্মায় এবং মোটরসাইকেলটি শাহিন শিকদারের ভাইয়ের জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে শাহিন শিকদারের হস্তক্ষেপে সেই মাদক ও মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে শুক্রবার সাংবাদিক মাইদুল সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এতে চরম ক্ষুব্ধ হন শাহিন শিকদার ও তার অনুসারীরা।

এরপর শাহিন শিকদারের নেতৃত্বে তার নেতাকর্মীরা শুক্রবার সন্ধ্যায় অতর্কিত সাংবাদিক মাইদুলের উপজেলা শহরের দোকানে হামলা করে তাকে পেটাতে থাকেন। এ সময় শাহিন শিকদার ও তার ছেলে মাইদুলকে দোকানের মেঝেতে ফেলে তার গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেন। এরপর পেটাতে পেটাতে তাকে থানাতে নিয়ে যান। তাকে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করানোর হুমকি দিয়ে থানায় আটকে রাখে। কিন্তু পুলিশ তাদের প্ররোচণা ও চাপে সাড়া না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত মামলা দিতে পারেনি। স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশি সহযোগিতায় প্রায় আড়াই ঘন্টা পর মাইদুলকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাংবাদিক মাইদুল ইসলাম বলেন, “শুক্রবার এশার আজানের কিছু সময় পর হুট করে শাহিন সিকদার ও তার নেতাকর্মীরা আমার দোকানে হামলা করে আমাকে পেটাতে থাকে। আমার ঘাড়ে ও গলায় আঘাত করে। আমাকে পেটাতে পেটাতে থানাতে নিয়ে যায়। তারা আমার নামে চাঁদাবাজির মামলা দিতে চায়। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশের সহযোগিতায় আমি ছাড়া পাই। এখনও আমি প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি। আমি আমার জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি।” তিনি আরও বলেন, “যে ঘটনা নিয়ে সংবাদ করেছি তা এলাকার সবাই জানেন। শাহিন শিকদারের হস্তক্ষেপে মোটরসাইকেল ও মাদক ছেড়ে দেওয়ার যে অভিযোগ, তাও সবার জানা। আমি শুধু সংবাদ করেছি। এজন্য আমার উপর হামলা করা হয়েছে। আমি বিচারও চাই না। কার কাছে বিচার চাইবো!”

মাইদুলের সংবাদ প্রতিবেদনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ভূরুঙ্গামারী পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শাহিন শিকদারের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “শাহিন শিকদার এলাকার প্রভাবশালী। তার বাড়ির সামনে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মাদকসহ মোটরসাইকেল আটক করেছিল। শাহিন শিকদারের হস্তক্ষেপে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এটা সবাই জানে। কিন্তু শাহিন শিকদার সেটা স্বীকার করছেন না।”

জানতে চাইলে অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা শাহিন সিকদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা। সাংবাদিক আমার অনেক ক্ষতি করেছে। তাকে আমি পেটাইনি। তবে তাকে থানায় নেওয়া হয়েছিল। পরে সবার অনুরোধে আমি মামলা করিনি। তাকে ছেড়ে দিতে বলেছি।”

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রিগান। তিনি বলেন, “সংবাদ প্রতিবেদন নিয়ে কারও অভিযোগ থাকলে সে বিষয়ে প্রতিবাদ কিংবা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এভাবে একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আবার তুলে নিয়ে থানায় দেওয়া ঘটনার ভয়াবহতার স্পষ্ট বার্তা দেয়। অভিযুক্তরা যে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টায় আছে, এ ঘটনা তার একটি নমুনা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।”

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মণ্ডল এ ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সাংবাদিক অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতো। কিন্তু ছেলেটাকে পিটিয়ে করুণ অবস্থা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা। তার দায় দল নেবে না।”

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, “ভুল বোঝাবুঝি থেকে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। ওই সাংবাদিককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু আমরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করেছি। কোনো পক্ষ থেকে মামলা হয়নি।”

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]