গণভোট ইস্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
সোমবার (৩০ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
পোস্টের শুরুতে রাশেদ খান বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে এবং এটি বিল আকারে সংসদে তোলা হচ্ছে না—এমন সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে। তবে আসল বিষয়টি অনেকেই বোঝার চেষ্টা করছেন না, আর বোঝানো বা ব্যাখ্যা করার মতো মানুষেরও অভাব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী দেশে একটি গণভোট ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু যে ভিত্তির ওপর এই গণভোট হয়েছে, তা নিয়ে ঐক্যমত কমিশনে উল্লেখযোগ্য বিতর্ক ছিল। কমিশনে উত্থাপিত কিছু প্রস্তাবে বিএনপিসহ কয়েকটি দল ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেয়। এমনকি জাতীয় সংসদ ভবনে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষরের সময়ও সেই নথিতে নোট অব ডিসেন্ট অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রাশেদ খানের অভিযোগ, স্বাক্ষরের পর সরকার যে দলিলটি গণভোটের জন্য প্রকাশ করে, সেখানে এসব নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। তার মতে, এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিএনপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছে।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই নেতা বলেন, ‘গণভোট অধ্যাদেশ জারি করার সময় “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন” আদেশে চারটি প্রশ্নের জন্য একটিমাত্র উত্তর দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। যদি প্রতিটি প্রশ্নের জন্য আলাদা করে হ্যাঁ বা না বলার সুযোগ থাকত, তাহলে ভোটাররা স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারতেন। এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়েও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরেকটি বড় ধরনের জালিয়াতি করেছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর ঐক্যমত কমিশনে আলোচিত বিষয়গুলো সংসদে পুনরায় আলোচনা করে ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারলে গণভোটে যাওয়ার যে রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকা উচিত ছিল, সেটিও নিশ্চিত করা হয়নি। বরং ভালো কিছু করার চেষ্টা করতে গিয়ে আগেভাগেই, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে একই দিনে গণভোট সম্পন্ন করা হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত নজির হলো—জাতীয় নির্বাচনের পর গণভোট আয়োজন করা।
রাশেদ খান বলেন, ‘ঐক্যমত কমিশন জোরপূর্বক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে গণভোট আগে বা একই সময়ে করার একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। এ কারণেই বিএনপি মনে করে, যে উদ্দেশ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে; নতুন করে এটি উত্থাপনের প্রয়োজন নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে আলোচনা করে ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে তবেই গণভোটে যাওয়ার যে প্রস্তাব বিএনপি দিয়েছিল, সেটিই সঠিক ছিল। কিন্তু বিএনপির প্রতি আস্থার অভাবে জোর করে গণভোট আয়োজন করা হয়েছে—যা পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করে তুলেছে।’
তার অভিযোগ, কিছু উপদেষ্টা ও কমিশনের সদস্য “ডিপ স্টেট”-এর প্রভাবের কথা বলে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন, যাতে নির্বাচন বিলম্বিত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টি হয়। তিনি দাবি করেন, বিএনপি পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল, সেগুলোই বাস্তবায়ন করবে।
সবশেষে তিনি বলেন, গণভোট অধ্যাদেশকে বিল আকারে সংসদে তোলা মানে নতুন করে আলোচনা শুরু করা, অথচ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ইতোমধ্যেই ঐক্যমত কমিশনে আলোচনা শেষে নিষ্পত্তি হয়েছে। তার মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংসদ গঠনের আগেই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করে ফেলেছে, যার দায় কোনোভাবেই বিএনপির নয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর